‘গ্রাহকদের টাকা নিয়ে এজেন্ট ব্যাংক উধাও’

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় গোপালপুর ইউনিয়নের ইসলামি ব্যাংক এজেন্ট কোটি টাকা নিয়ে মালিক উধাও। জেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের আফুলশি গ্রামের বাসিন্দা ইশফাক ইয়াছিন দুইটি এজেন্ট ব্যাংক পরিচালনা করে। গেল কয়েকদিন থেকে সে কোটি টাকা নিয়ে উধাও। তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের পর গত ১ জুন থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইশফাক ইয়াছিন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি বেগমগঞ্জে দুটি এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি অনলাইনে বই বিক্রির একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার লেনদেনের পর গত ১ জুন দুপুরে তিনি নোয়াখালী ত্যাগ করেন। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের সব মাধ্যম অকার্যকর পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের কয়েকজন প্রতিনিধি বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা জরুরি। এতে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাওয়ার পাশাপাশি জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তিও দূর হবে। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতারণার আরেকটি অভিযোগে ঢাকার একটি আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালত বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশত্যাগের চেষ্টা করতে পারেন। তাই তারা দ্রুত তার অবস্থান শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে ইশফাক ইয়াছিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ওসি শামসুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ বা মামলা করা হলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।