ভাঙা সেতু পারাপারে কাঠের তক্তা ঝুঁকিতে সাত হাজার মানুষ

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  জিয়াউর রহমান, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের জগারপুর এলাকায় দুশমির খালের ওপর নির্মিত সেতু এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ব্রিজটির মাঝখানের ঢালাই ধসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে। ধসে যাওয়া অংশে কাঠের তক্তা দিয়ে কোনোমতে পারাপারের চেষ্টা করলেও যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৭টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ এই ব্রিজটি দুই দশক আগে উপজেলা এলজিআরডি কর্তৃক ২০০৫ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণের পর দীর্ঘ ২১ বছরেও এখানে কোনো ধরনের সংস্কার কাজ করা হয়নি। ফলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে ব্রিজটির বিভিন্ন অংশের ঢালাই ধসে পড়তে শুরু করে। বর্তমানে ব্রিজের মাঝখানের মূল অংশ ভেঙে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভেতরের লোহার রড পুরোপুরি আলগা হয়ে গেছে। এই ব্রিজটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন উত্তর ঘটকের আন্দুয়া, কুমারখোলা, মানসুরাবাদ, চিংগড়িয়া, পিঁপড়াখালি, সুন্দ্রা-কালিকাপুর ও কলাগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দারা স্থানীয় বাজার-ঘাট ও উপজেলা সদরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। উত্তর ঘটকের আন্দুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলাগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর ঘটকের আন্দুয়া সালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, হাজী আশরাফ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ঝাটিবুনিয়া ম.ই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙা ব্রিজ পার হচ্ছে। এছাড়া এলাকার অসুস্থ ও বৃদ্ধ রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার কোনো বিকল্প পথ না থাকায় গ্রামীণ মানুষের দুর্ভোগের সীমা নেই। পাশাপাশি এ অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য স্থানীয় বাজারে পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম এই ব্রিজটি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে পণ্যবাহী কোনো যানবাহন বা ভ্যান-রিকশাও ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। ফলে কৃষকরা তাদের পণ্য সঠিক সময়ে বাজারে নিতে পারছেন না এবং অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রিজটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় এটি ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। তারা এই চরম ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল বাশার নাসির বলেন, সেতুটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে যেকোনো মুহূর্তে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেতুটি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নিবেন।

উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ব্রিজটি নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বাজেট অনুমোদন হলে ব্রিজটি নির্মাণ করা হবে।