সিজারে নবজাতকের মাথা কাটলেন সীমান্ত ক্লিনিকের চিকিৎসক

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক প্রসূতি মায়ের সিজার করতে গিয়ে নবজাতকের মাথার ডান পাশে কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠেছে সীমান্ত ক্লিনিকের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের চিকিৎসার অবহেলার কারণে নবজাতক ও প্রসূতি মায়ের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গত রোববার সকালে নবজাতকের বাবা ভূরুঙ্গামারী থানায় এবিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, কচাকাটা থানার খামারটারী এলাকার বাসিন্দা আলম মিয়ার অন্তসত্ত্বা স্ত্রী লাইলী বেগম (২৬) প্রসববেদনা নিয়ে গত শুক্রবার বিকালে ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সীমান্ত ক্লিনিকে ভর্তি হন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জরুরি সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দেয়। পরে ৯ হাজার ৫০০ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে নির্দিষ্ট একজন অভিজ্ঞ মহিলা ডাক্তারের মাধ্যমে সিজার করানোর অনুরোধ জানান নারীর পরিবার। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মহিলা চিকিৎসককে না এনে কেএম রায়হান-উল-ইসলাম নামের একজন পূরুষ চিকিৎসক দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করান। অপারেশনের সময় নবজাতকের মাথার উপরে ডান পাশে প্রায় ১ ইঞ্চি লম্বা কাটা পড়ে এবং পরবর্তীতে তা ধামাচাপা দিতে তড়িঘড়ি করে সেখানে সেলাই দেওয়া হয়। নবজাতকের মাথায় ব্যান্ডেজ ও সেলাই দেখে স্বজনরা কারণ জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কোনো সদুত্তর না দিয়ে চুপ থাকে। এতে অবস্থার অবনতি হলে রোগীর অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশু ও তার মাকে সরকারি হাসপাতালে রেফার করার অনুরোধ জানালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এবং উল্টো দ্রুত বিল পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পরে নিরুপায় হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নবজাতকের বাবা আলম মিয়া। অভিযোগ পেয়ে পুলিশি হস্তক্ষেপে নবজাতক ও প্রসূতি মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক কেএম রায়হান-উল-ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজারকালে নবজাতকের মাথাকাটার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন। এবং সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি ফোন কেটে দেন। সীমান্ত ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী আব্দুল মজিদের ভাষ্য ওই নবজাতকের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা হবে। এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আবু সাজ্জাদ মোহাম্মদ সায়েম মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।