চলনবিলে ৭ লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়ায় চলনবিলের মা মাছ, পোনা মাছ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের টানা তিন দফার বিশেষ অভিযানে প্রায় ৭ লাখ টাকা মূল্যের ১৫০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার তাজপুর, সাতপুকুরিয়া ও পয়েন্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ৫০টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক এবং সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল রিফাত এসব জাল পুড়িয়ে ধ্বংসের নির্দেশ দেন।

এর আগে, গত ৪ জুন পৌরসভার নিংগইন এবং ৬ জুন উপজেলার সারদানগর ও হুলহুলিয়া বিলে পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা মূল্যের ১০০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস করেছিল প্রশাসন।

অভিযান চলাকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া, নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী, সিংড়ার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন এবং সিংড়া পরিবেশ ও প্রকৃতি আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু জাফর সিদ্দিকী। চলনবিলে নিষিদ্ধ জালের এই ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিংড়া পরিবেশ ও প্রকৃতি আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, ‘শস্য ও মৎস্য ভাণ্ডার খ্যাত চলনবিলে নতুন পানি আসার সঙ্গে সঙ্গেই একশ্রেণীর অসাধু চক্র নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করে মা মাছ, পোনা মাছ ও জীববৈচিত্র্য নিধন করছে। প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের এই টানা অভিযানে আমাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। চলনবিলের সুস্বাদু মাছ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় আরও কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানাচ্ছি।’ নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী বলেন, ‘দেশি প্রজাতির মাছের অন্যতম প্রধান ভান্ডার হলো চলনবিল। এখানে কিছু দুষ্কৃতকারী নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে নির্বিচারে মাছ নিধন করছে। এদের রুখতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

অভিযানের বিষয়ে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘চলনবিলে নতুন পানি আসতেই দুষ্কৃতকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। গত ৪ জুন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আমরা ৭ লাখ টাকার জাল ধ্বংস করেছি। বিলের মাছ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের এই কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’