গ্রীষ্মকালীন পটোল চাষে ফিরছে সচ্ছলতা

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এস.এম. তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে এবার গ্রীষ্মকালীন পটোল ও বিভিন্ন সবজি চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ পটোলের বাজার ভালো থাকায় কৃষকরা এখন খুশি। এরমধ্যেই এ চাষে অনেক কৃষকের সচ্ছলতা ফিরছে। এতে কম খরচে লাভ বেশি পটোলসহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ বাড়ছে। জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্তানে গ্রীষ্মকালীন পটোলসহ অনান্য সবজি চাষে ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষ করেছে কৃষকরা। সবচেয়ে বেশি এ চাষ হয়েছে শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এবং যমুনা নদীর চরাঞ্চলেও এ চাষাবাদ করা হয়েছে। এ গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে, পটোল, বেগুন, ঢ্যাঁড়শ, পেঁপে, কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, পালংশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, ডাটা, সিম ও মুলা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রায় ৩ মাস আগে এসব দেশি সবজি চাষ করেছে কৃষকরা এবং হাইব্রিড সবজি সারা বছরই চাষ হয়ে থাকে। পটোলসহ এসব সবজি হাট-বাজারে দামও ভালো থাকায় কৃষকরা খুশি।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, খরচ কম, লাভ বেশি এ গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষাবাদে কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তবে যমুনা নদীর তীরবর্তী ৫টি উপজেলার চরাঞ্চলে পটোল ও বিভিন্ন সবজি বেশি চাষ হয়েছে। এছাড়া এ সবজি বাড়ির আঙিনা ও পুকুর পাড়ে এ চাষ করা হয়ে থাকে। তবে এ চাষে গৃহবধূরাই বেশি রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। এদিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী নতুনপাড়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক হাসান (৪৫) প্রায় ২৪ শতাংস জমিতে গ্রীষ্মকালীন পটোল চাষ করেছে। এ চাষাবাদ করতে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭ হাজার টাকা এবং প্রায় দেড় মাস ধরে এ জমি থেকে পটোল উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং প্রতিকেজি পটোল খুচরা মূল্য ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি করছে। এরমধ্যেই প্রায় ২৫ হাজার টাকার পটোল বিক্রি করেছে এবং আরও ১/২ মাস পটোল উৎপাদন হবে।

খরচের চেয়ে এ জমি থেকে কয়েকগুণ লাভ হবে বলে আশা করছে। এ চাষাবাদের লাভ দেখে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা পটোল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এ চাষে অনেক কৃষকের সচ্ছলতা ফিরছে। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক এ. কে. এম. মঞ্জুরে মওলা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, আগাম গ্রীষ্মকালীন পটোলসহ বিভিন্ন সবজি চাষে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছে স্থনীয় কৃষি বিভাগ। বিশেষ করে কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে থেকেও এ পরামর্শ দিয়েছেন। এবার এ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে এবং বাজার ভালো থাকায় কৃষকরা খুশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।