মুন্সীগঞ্জে আট সড়ক প্রকল্পের চুক্তি বাতিল

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জে নানা অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রাখা, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন না করা, লিকুইডেটেড ড্যামেজ (এলডি) সীমা অতিক্রম, অননুমোদিত মালামাল সরবরাহ এবং নিম্নমানের কাজের অভিযোগে মুন্সীগঞ্জে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ৮টি সড়ক উন্নয়ন, পুনর্বাসন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া এসব প্রকল্পের মোট চুক্তিমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ৪২ হাজার ৭১০ টাকা।এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৬টি শ্রীনগর, ১টি মুন্সীগঞ্জ সদর এবং ১টি সিরাজদিখান উপজেলার। অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ বছরের পর বছর ধরে ঝুলে ছিল। বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।সবচেয়ে বেশি প্রকল্প বাতিল হয়েছে শ্রীনগর উপজেলায়। এর মধ্যে বেজগাঁও বাসস্ট্যান্ড-পাটাভোগ প্রাইমারি স্কুল (আলহাজ শেখ মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ) সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ পেয়েছিল মেসার্স মিজান অ্যান্ড ব্রাদার্স। প্রায় ৬৩ লাখ ৫২ হাজার টাকার এ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২০২২ সালের ১১ ডিসেম্বর। একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকা সালামতি-মোত্তাগ্রাম সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ছিল প্রায় ৭৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল চুক্তি স্বাক্ষরের পরও প্রকল্পটির কাজ সন্তোষজনক অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।এছাড়া কাজীপাড়া-বেবন্দি বাজার-পাচালদিয়া জিপিএস পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্বে ছিল রুদ্র এন্টারপ্রাইজ। প্রায় ৭৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকার এ প্রকল্পের চুক্তি হয় ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। একইভাবে কামারখোলা ব্রিজ-ফইনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়ক উন্নয়ন এবং শিংপাড়া বাজার-নন্তর ইউপি অফিস পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা মেসার্স খোকন লেদারের দুটি প্রকল্পও বাতিল করা হয়েছে। প্রকল্প দুটির সম্মিলিত চুক্তিমূল্য প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চরডুমুরিয়া বাজার থেকে মাকুহাটি বাজার পর্যন্ত সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজও বাতিল করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর চুক্তিবদ্ধ হওয়া প্রায় ৮১ লাখ ৬৪ হাজার টাকার এ প্রকল্পটির দায়িত্বেও ছিল মেসার্স খোকন লেদার।অন্যদিকে সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর-মালপদিয়া সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ পেয়েছিল মেসার্স আব্দুল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স। প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৫ হাজার টাকার এ প্রকল্পটি বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যের।সর্বশেষ চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি চুক্তিবদ্ধ হওয়া শ্রীনগরের শিবরামপুর হাট-মদরখালী লঞ্চঘাট ভায়া আদর্শ কলেজ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের কাজও বাতিল করা হয়েছে। প্রায় ৬৯ লাখ ৩২ হাজার টাকার এ প্রকল্পের দায়িত্বে ছিল মেসার্স আয়শা কনস্ট্রাকশন। এলজিইডির নথি অনুযায়ী, অধিকাংশ প্রকল্পের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রাখা, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করা, লিকুইডেটেড ড্যামেজের সর্বোচ্চ সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া, অননুমোদিত বা অনির্ধারিত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নিন্মমানের কাজের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন জনস্বার্থে উন্নয়ন কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা এলজিইডির দায়িত্ব।মুন্সীগঞ্জে কয়েকজন ঠিকাদার আছে তারা বৃষ্টিসহ নানা অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রাখে এর ফলে জনসাধারণের দূর্ভোগের সৃষ্টি হয়। এতে জনগন এলজিইডির উপর দায় চাপায়। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন না হওয়ায় বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর চুক্তি বাতিল করা হয়। সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. রেজওয়ানুর রহমান বলেন,"প্রকল্পগুলোর কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। একাধিকবার নোটিশ ও তাগিদ দেওয়ার পরও সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে কাজের গুণগত মান নিয়ে আপত্তি পাওয়া গেছে এবং চুক্তির শর্ত ভঙ্গের বিষয়ও প্রমাণিত হয়েছে। এজন্য চুক্তি বাতিল করার সিন্ধান্ত নেওয়া হয়।বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলোর বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।