ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারে গুরুত্বারোপ

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর মহিপুরে জৈব সার উৎপাদন ও বাজারজাতকরণকে আরও গতিশীল করতে কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের প্রয়াস প্রকল্পের উদ্যোগে এক অ্যাডভোকেসি ও লিংকেজ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় স্থানীয় সরকার, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, সার ব্যবসায়ী, বাজার কমিটি, কৃষক প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। গতকাল কারিতাস মহিপুর কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রকল্পের উপকারভোগীদের উৎপাদিত ভার্মি কম্পোস্ট সার বাজারজাতকরণে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন, স্থানীয় বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি, সচেতনতা সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রয়াস প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত জৈব সার কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করতে এবং বাজারে এর টেকসই অবস্থান নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদক ও বাজারের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরির কাজ চলছে। প্রধান অতিথি কলাপাড়া উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান। তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভার্মি কম্পোস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব সারের বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। সার ব্যবসায়ী আমির হোসেন কাজী বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মানসম্মত ভার্মি কম্পোস্ট কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে বাজারভিত্তিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত প্রচারণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ সময় বিশেষ অতিথি দেন এক্যাব ও ধরিত্রী প্রকল্পের জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মি. জর্জ বৈরাগী, আইডিপিডিসি প্রকল্পের এলসিএমও মি. মং ম্যা, মহিপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান আকাশ, কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক মো. আবুল হোসেন রাজু, কৃষক আব্দুর রহিম এবং কৃষাণি অনিতা বালা।

বক্তারা বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট শুধু একটি জৈব সার নয়; এটি পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উৎপাদকদের জন্য বাজার সৃষ্টি, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারী অতিথি, কৃষক প্রতিনিধি, বাজার কমিটি, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়। সভায় স্থানীয় কৃষক, প্রকল্পের উপকারভোগী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।