‘কক্সবাজারের স্থানীয়দের জন্য বরাদ্দ ৫ শতাংশ কমাল জাতিসংঘ’

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কক্সবাজার অফিস

১২ লাখেরও বেশি বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়া স্থানীয় জনগোষ্টী কক্সবাজার জেলাবাসির জন্য বরাদ্দ আর্থিক সহায়তা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নিয়ে এসেছে জাতিসংঘ।

প্রতিবছর প্রণয়ন করা যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার (জেআরপি) এবারের পরিকল্পনায় এমনই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে জেআরপি ২০২৬ এর বাস্তবায়ন কাঠামো থেকে স্থানীয় এনজিও গুলোকেও বাদ দেয়া হয়েছে। কক্সবাজারে কর্মরত এনজিওদের সংগঠন কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই দাবি করেছেন। গতকাল বুধবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলা হয়, জাতিসংঘ, জাতিসংঘভূক্ত সংস্থা, আইএনজিও ও জাতীয় এনজিও গুলোর কোন পক্ষই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে পরিকল্পনা করছে না। কোন সংস্থাই এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কোন রোডম্যাপ নিয়ে পরিকল্পনা করেনি। তারা কেবল বরাদ্দ নিয়েই ব্যস্ত হয়ে আছে।

কক্সবাজারের স্থানীয় এনজিওদের সংগঠনটি অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বলছে, রোহিঙ্গা সংকট এখন নবম বছরে পদার্পণ করেছে। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলো কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। এ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য প্রতিবছর একটি যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। তবে স্থানীয় অংশীজনরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, জেআরপি ২০২৬-এর বাস্তবায়ন কাঠামো থেকে স্থানীয় এনজিওগুলোকে বাদ দেয়া হয়েছে। তাদের মতে, জেআরপি বাস্তবায়ন থেকে স্থানীয় এনজিওদের বাদ দেয়া গ্র্যান্ড বার্গেইনের অধীনে গৃহীত স্থানীয়করণ অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যার স্বাক্ষরকারী ইউএনএইচসিআর। ‘ইউএনএইচসিআরকে অবশ্যই স্থানীয় এনজিওদের অংশীদারিত্বে অগ্রাধিকার দিতে হবে; জেআরপিতে স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর জন্য ৫% বরাদ্দ স্থানীয়করণ অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’ শিরোনামে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

এতে বক্তারা জেআরপি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধিদের জন্য সুযোগ না রাখারও সমালোচনা করেন। তারা বলেন, জেআরপি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধির বক্তব্যের প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হয়নি, অথচ আন্তর্জাতিক এনজিওর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা একটি ‘জেআরপি ২.০’ কাঠামোর প্রস্তাব করেন, যেখানে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সিসিএনএফের প্রধান মডারেটর রেজাউল করিম চৌধুরী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় এনজিও প্রতিশ্রুতির আঞ্জুমান আরা, কোস্ট ফাউন্ডেশনের মো. ইকবাল উদ্দিন, মো. শাহিনুর ইসলাম ও তাহরিমা আফরোজ টুম্পা; কক্সবাজার পর্যটন শিল্প, সমবায় সমিতি লিমিটেডের নেওয়াজ মো. সেলিম, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের নুরুল কবির; পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর আহমদ; কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমির মুহম্মদ নুরুল ইসলাম; কক্সবাজার ইয়ুথ ফোরামের নাসিমা আখতার; কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্সের জাহানারা ইসলাম ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী।

রেজাউল করিম চৌধুরী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে সরকার ও জাতিসংঘ সংস্থাগুলোকে নাফ নদীর পানি পরিশোধন করে সরবরাহের উদ্যোগ নেয়ারও আহ্বান জানান।এই ব্রিফিংয়ে অভিযোগ তোলা হয়, ইউএনওসিএইচএ রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে।

যার ৯২ শতাংশই পেয়েছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো এবং ৮ শতাংশ পেয়েছে আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো। এটি তাদের স্থানীয়করণ অঙ্গীকারের পরিপন্থী। তাদের দাবি, আগামী তহবিল বরাদ্দে স্থানীয় সংগঠনগুলোকে জেআরপির আবেদনকারী সংস্থা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাদের সরাসরি তহবিল প্রদানের সুযোগ প্রদান করতে হবে।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, একটি স্থানীয় এনজিওকে ৩০টিরও বেশি প্রকল্প দেয়া হয়েছে, অথচ স্থানীয় অন্য কোন সংগঠন কোনো প্রকল্পই পায়নি। তারা বলেন, এই একচেটিয়া ও কেন্দ্রীভূত অর্থায়ন ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে।