নারী পুলিশ সদস্যদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার আহ্বান
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

নারী পুলিশ সদস্যদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিষয়ক পরামর্শমূলক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি। পুলিশ কমিশনার বলেন, একজন নারী পুলিশ সদস্য হিসেবে নিজেকে কখনোই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় নারী কর্মকর্তারা পুলিশ সুপারসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করছেন।
সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের পদেও নারীরা দক্ষতা, মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। ফলে নারী সদস্যদের নিজেদের সক্ষমতার প্রতি আস্থা রেখে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, চাকরির অংশ হিসেবে পোস্টিং বা বদলি একটি স্বাভাবিক বিষয়। এ নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন না হয়ে যেকোনো কর্মস্থলে দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। একজন পুলিশ সদস্যের পরিচয় তার কর্মদক্ষতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। পেশাগত জীবনে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কোনো দুঃসংবাদ পেলেও একজন পুলিশ সদস্যকে ধৈর্য, সংযম ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। আবেগ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা একজন দক্ষ পুলিশ সদস্যের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।
তিনি সততা, পেশাদারিত্ব এবং যোগ্যতার প্রতি সম্মান নীতিকে সামনে রেখে নারী ও পুরুষ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতামূলক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শারীরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য থাকলেও জ্ঞান, দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নারীরা সমানভাবে সক্ষম। তাই নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্মান ও সমন্বয়ই একটি আধুনিক, মানবিক ও কার্যকর পুলিশ বাহিনী গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত।পুলিশ কমিশনার নারী পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে নারী পুলিশবান্ধব বাজেট, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নারী সদস্যদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।
