১০ টাকার দ্বন্দ্বে খুন পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আলোচিত আয়েশা খাতুন হত্যা মামলার পলাতক আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ বিকেলে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বাকতা ইউনিয়নের কৈয়ারচালা গ্রামে মাত্র ১০ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। নিহত আয়েশা খাতুনের ছেলে আশিকের কাছে অভিযুক্তদের একজনের ১০ টাকা পাওনা ছিল। এ বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে এলে আশিকের মা আয়েশা খাতুন (৪০) হামলার শিকার হন। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।
ঘটনার পর নিহতের মা বাদী হয়ে ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল পেনাল কোডের ধারায় রুজু করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকে জড়িত আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়।র্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকেই পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৪ ময়মনসিংহ এবং র্যাব-১ গাজীপুরের যৌথ আভিযানিক দল বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে গাজীপুর সদর থানার ভোগড়া বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে বলে র্যাব সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।র্যাব-১৪-এর এক কর্মকর্তা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব সর্বদা তৎপর রয়েছে। হত্যা, সন্ত্রাস ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধে জড়িত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার জহিরুল ইসলামকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফুলবাড়ীয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
