প্রতিবেশীর বাসায় শিশুর বস্তাবন্দি লাশ, স্বামী স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার তিন
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

আদমদীঘির সান্তাহারে সাড়ে ৬ বছর বয়সের রাকা মুনি নামের এক শিশুর নিখোঁজের ৬ ঘণ্টা পর প্রতিবেশির বাসা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার লাশ পুলিশ উদ্ধার করেছে।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় সান্তাহার সাহেব পাড়ার প্রতিবেশি আমজাদ হোসেনের বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশু রাকা মণি ওই এলাকার অটোরিকশা মিস্ত্রি রায়হান আলীর মেয়ে। এ ঘটনায় আদমদীঘি থানায় নিহত রাকা মিনর বাবা সান্তাহার সাহেব পাড়ার রায়হান আলী বাদী হয়ে প্রতিবেশি আমজাদ হোসেন তার স্ত্রী বন্যা বেগম, বাবু হোসেনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতিবেশি আমজাদ হোসেন, তার স্ত্রী বন্যা বেগম ও বাবু হোসেনকে আটক করেছে।
এদেিক পুলিশ রাতেই লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে মের্গ প্রেরণ করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সান্তাহার সাহেব পাড়ার রায়হান আলী মেয়ে রাকা মনিকে রেখে তার মা মনিরা বেগম তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে রাকা মনিকে তার বাবা ও ফুপু লিপি বেগম লালান পালন করে আসছিলেন। সে মাদ্রাসায় প্লে ক্লাশে পড়াশোনা করত।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় রাকা মনি প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজা খুঁজি শুরু করে।
এক সময় পাশের প্রতিবেশির অনেকের বাসা তল্লাশি করার এক পর্যায়ে রাত ১০ টায় প্রতিবেশি আমজাদ হোসেনের বাসার একটি কক্ষ থেকে রাকা মনির বস্তাবন্দী লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাকা মনির বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতিবেশি আমজাদ হোসেন, তার স্ত্রী বন্যা বেগম ও বাবু হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন।
নিহত রাকা মনির বাবা রায়হান আলী জানায়, তার মেয়েকে প্রতিবেশিরা কৌশলে ডেকে নিয়ে তার কানে থাকা সোনার দুল খুলে নিয়ে হত্যা করে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় লাশ ভর্তি করে বাসায় গোপন করে রাখা হয়েছিল।
এ ঘটনায় আমি ন্যায় বিচার চাই। আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া জানায়, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।
