হাসপাতাল পরিদর্শন করে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের নোংরা পরিবেশ, অব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসক-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি দেখে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতি শুধরে নেওয়ার জন্য আগামী পরশুদিন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসককে বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকির নির্দেশ দেন।

গতকাল রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের ১০টি জেলায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধন করতে এসে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর আগে, নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগেই হাসপাতালে পৌঁছে তিনি হাজিরা খাতা ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি যাচাই করেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল ১০টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আসার কথা থাকলেও তিনি সকাল ৯টাতেই হাসপাতালে চলে আসেন। হাসপাতালে পৌঁছেই তিনি বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং উপস্থিতির তালিকা হাতে নিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও অন্য কর্মীদের নাম ধরে ডাকতে শুরু করেন।

উপস্থিতি যাচাইয়ের সময় কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক অসংগতি তার নজরে আসে। পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের সেবার মান, পরিচ্ছন্নতা এবং রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেন ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় মন্ত্রী সিভিল সার্জনকে বলেন, একটা হাসপাতালে সচিব, মন্ত্রী, ডিজি আসবে আমরা দেখলাম হাসপাতালের অবস্থা। বাংলাদেশের অনেক জায়গায় গিয়েছি। অন্তত আমার ভয়ে হলেও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রেখেছে। আপনি সেটা করেননি। আপনাকে পরশুদিন পর্যন্ত সময় দিয়ে গেলাম।

তিনি আরও বলেন, আপনার কিচেন থেকে সব জিনিস বের করতে হবে। সব কালো পাতিল ভেঙে ভাঙারির কাছে বিক্রি করতে হবে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধির সামনে। এসব জিনিস আপনার বাসায় রাখবেন? তিনমাস ধৈর্য ধরেছি, অতীত ভুলে গিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এবং রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এ ধরনের পরিবেশ থেকে জীবাণু ছড়াতে পারে, যা বিশেষ করে শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ১৬ ঘণ্টা কাজ করেন আমাদের সঙ্গে অফিসে। বাসায় গিয়ে কাজ করেন। আমাদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য আপনাদেরকে পারতে হবে। সবাই মিলে নারায়ণগঞ্জ সিটিকে আগের নারায়ণগঞ্জে ফিরিয়ে নিতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম সহ্য করা হয়েছে। এখন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহির মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে। অতীতের ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর। তাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম, সাখাওয়াত হোসেন খান, মামুন মাহমুদ, মাশুকুল ইসলাম রাজীব, ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মো. রায়হান কবির, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী এবং ডা. আবুল ফজল মুহাম্মদ মুশিউর রহমান।