২৪৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫ বছর পর গঠিত হচ্ছে ম্যানেজিং কমিটি
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
নীলফামারীর জলঢাকায় দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে স্কুল পরিচালনা কমিটি (এস.এম.সি) বিহীন চলছে উপজেলার ২৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। শিক্ষার মান ও পরিবেশ রক্ষায় চলতি বছরের মে মাসে উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনে নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে অনেক বিদ্যালয়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে তাদের বিদ্যালয়ে কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচন কার্যক্রম চালাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০০৮ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১১ সালে। এরপর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একটি মামলার কারণে কমিটির নির্বাচন স্থাগিত থাকে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে মামলা নিস্পত্তি হওয়ার ৩ বছর পর ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টম্বর স্ব-স্ব ক্লাস্টার প্রধান সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা নোটিশ আকারে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় অনেক বিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও অদৃশ্য কারণে ভোটে বিজয়ীদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেননি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। অভিভাবক মহলের অভিযোগ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অসহযোগিতা ও উদাসীনতায় এ কমিটিগুলো দীর্ঘ বছর ধরে গঠিত হচ্ছে না। অফিস সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার মান ও পরিবেশ রক্ষায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে ১২ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হওয়ার কথা।
সেখানে একজন সভাপতি, প্রধান শিক্ষক সদস্য সচিব, একজন শিক্ষক প্রতিনিধি, একজন দাতা সদস্য, দুইজন বিদ্যুৎসাহী, চারজন অভিভাবক সদস্য, একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সংশিষ্ট ওয়ার্ডের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকবে।
গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এ কমিটি বিদ্যালয়ের স্বার্থ সংরক্ষণ, শতভাগ উপস্থিতি-মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করণ, দুর্নীতিমুক্ত থেকে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যয় করার দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করবে। কিন্তু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অসহযোগিতার কারণে প্রায় ১৫ বছর যাবত এসব বিদ্যালয়ের কমিটি গঠিত না হয়ে সংশিষ্ট ক্লাস্টারের একজন সহকারী শিক্ষা অফিসার ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নিয়ে দুই সদস্যের একটি এডহক কমিটি গঠন করে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। ফলে বিদ্যালয়গুলো পরিচালনা পর্ষদে স্থানীয় জনগনের অংশীদারীত্ব না থাকায় বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দ বাস্তবায়নে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, শিক্ষকদের পাঠদানে নিষ্ক্রিয়তা ও স্বেচ্ছাচারিতায় বিদ্যালয়গুলোর লেজে-গোবরে অবস্থায় পরিনত হয়েছে। উত্তর চেরেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য ফারুক হোসেন বলেন,‘আমরা ২০১৯ সালের তফসিল অনুযায়ি নির্বাচন করে জয়ী হওয়ার পরও অজ্ঞাত কারণে এখন পর্যন্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা অফিসের কোন লোক আমাদের খোজ খবর করেননি, আমরা অতিদ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি চাই।
’দুন্দিবাড়ী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে অংশ নেয়া অভিভাবক ফুরাদ হোসেন বলেন,‘‘ আগামী ২৮ জুন আমাদের স্কুলের নির্বাচন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য এ নির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করেছি।’’ ম্যানেজিং কমিটির কাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম বলেন,‘ এর আগে ৩ বার নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করার পরও অজ্ঞাত কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি,যার কারণে অভিভাবকবৃন্দ ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।
এছাড়াও নির্বাচন কার্যক্রমে প্রধান শিক্ষকগণ আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে।’’ তবে এবারে তফসিল ঘোষণার পর আবারও নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করেছি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সামাদ বলেন, ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চিঠির মাধ্যমে অবগত করা হয়েছে, যদি কোন প্রধান শিক্ষক নির্বাচন কার্যক্রম না চালান তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে।
