খুলনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  খুলনা ব্যুরো

ডেঙ্গু রোগপ্রতিরোধ বিষয়ক জনসচেতনতামূলক এক মতবিনিময় সভা গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এবং বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সর্বস্তরের জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধিতে খুলনা সিটি কর্পোরেশন স্কুলের শিক্ষক ও পরিবহন সেক্টরের সাথে সম্পৃক্তদের উপস্থিতিতে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় কেসিসি প্রশাসক শিক্ষকদের উদ্দেশ করে বলেন, আপনাদের মাধ্যমেই ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তাটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই। প্রত্যেকটি স্কুল যদি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে বার্তাটি পৌঁছে দেয় তাহলে সিটি কর্পোরেশনের কাজ অনেকটা সহজ হবে।

পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ঢাকাসহ অন্যান্য জেলা থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলির সাথে এডিস মশা আসার সম্ভাবনা থাকে। সে জন্য তিনি গাড়ি ছাড়ার পূর্বে প্রতিটি গাড়িতে মশক নিধন ঔষধ স্প্রে করার অনুরোধ জানান।

সভায় জানানো হয়, ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর যা এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা ও মাংসপেশিতে ব্যথা, শরীরে লালচে দানা ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ। সাধারণ চিকিৎসাতেই এ জ্বর সেরে গেলেও হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর মারাত্মক হতে পারে। এডিস মশা পরিষ্কার পানিতে বংশ বিস্তার করে বিধায় এই মশার দমনই ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধের অন্যতম উপায়। সর্বস্তরের জনগণের সম্পৃক্ততা এবং সহযোগিতার মাধ্যমেই এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে মশার বংশ বিস্তার রোধে ঘরে অথবা ঘরের আশেপাশে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেয়া, ব্যবহার শেষে হাই কমোড ঢাকনা বন্ধ করা, মশার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ফুল প্যান্ট ও ফুল হাতার কাপড় পরিধান করা এবং জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে মশারির মধ্যে রাখা গেলে এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া অনেকাংশে সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী জনগণকে সম্পৃক্ত করে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রশাসক আরও বলেন, আপনাদের দেয়া করের অর্থ দিয়েই আপনাদের সেবা দেয়া হয় এবং একটি পরিচ্ছন্ন সুন্দর শহর গড়ে তোলার জন্য আমরা সচেষ্ট থাকি। কিন্তু আপনাদের সম্পৃক্ততা ছাড়া কেসিসি’র একার পক্ষে তা সফল করা সম্ভব নয়। বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি বাজারের পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেন না অভিযোগ তুলে তিনি একটি সুন্দর শহর গড়ে তুলতে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। আগামীতে দায়িত্বে অবহেলা করলে সকলকেই আইনের মুখোমুখি হতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদণ্ডএর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, বাজেট কাম একাউন্টস অফিসার মো. মনিরুজ্জামান, ভেটেরিনারী সার্জন ডা. পেরু গোপাল বিশ্বাস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম, থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মমিন, রুমানাই ইয়াসমিন, মো. শাহজাহান, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেনসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মহানগরীর প্রায় ১১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ পরিবহন সেক্টরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।