চান্দিনায় ধুন্দল চাষে লাভবান কৃষক

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ওসমান গনি, চান্দিনা (কুমিল্লা)

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মেহার গ্রামের ফসলের মাঠে এখন সবুজের সমারোহ। বিস্তীর্ণ মাঠের মাঝে এক টুকরো জমিতে ঝুলছে কৃষকের স্বপ্ন। মাচাজুড়ে ঝুলে থাকা সেই সবুজ ধুন্দল দেখেই এখন আনন্দের হাসি ফুটে উঠছে স্থানীয় চাষি হাবিবুল্লাহর মুখে। মাত্র ১২ শতাংশ জমিতে ধুন্দুল চাষ করে চলতি মৌসুমে বেশ ভালো লাভের মুখ দেখছেন তিনি। অল্প পুঁজি আর সঠিক পরিচর্যা যে কৃষিতে বড় সাফল্য এনে দিতে পারে, হাবিবুল্লাহর এই ধুন্দুল চাষ তারই এক অনন্য উদাহরণ। চলতি মৌসুমে নিজের ১২ শতাংশ জমিতে ধুন্দল চাষের সিদ্ধান্ত নেন হাবিবুল্লাহ। জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে বীজ কেনা, মাচা তৈরি এবং সার-কীটনাশক বাবদ তার সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। চাষের শুরুতেই এমন স্বল্প খরচের ফসল কৃষকের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলন আসার পর থেকেই বাজারে এর ভালো চাহিদা থাকায় শুরু হয় নিয়মিত বিক্রি।

ইতোমধ্যেই জমি থেকে ধুন্দল তুলে বাজারে বিক্রি করে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা ঘরে তুলেছেন এই পরিশ্রমী কৃষক। অর্থাৎ, চাষের প্রাথমিক খরচটি এর মধ্যেই উঠে এসেছে এবং লাভ আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ধুন্দল ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা একজন চাষির জন্য বেশ সন্তোষজনক মূল্য। বর্তমানে হাবিবুল্লাহর জমিতে ধুন্দলের যে চমৎকার ফলন ও গাছের সতেজ অবস্থা দেখা যাচ্ছে, তাতে আগামী দিনগুলো নিয়ে তিনি চরম আশাবাদী। জমিজুড়ে যেভাবে ফলন ছড়িয়ে আছে, তাতে আর কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই ১২ শতাংশ জমি থেকেই সব মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা নিট লাভ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি। স্বল্প সময়ে এবং নামমাত্র খরচে ধুন্দল চাষের এই সাফল্য এখন আশেপাশের অনেক কৃষকের জন্যই অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং লাভজনক হওয়ায় স্থানীয় অনেক চাষিই এখন হাবিবুল্লাহর এই ধুন্দল খেত দেখতে আসছেন এবং আগামীতে এই সবজি চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। সঠিক সময়ে সরকারি কৃষি প্রণোদনা ও পরামর্শ বজায় থাকলে এই অঞ্চলে ধুন্দলসহ অন্যান্য ওলন্দাজ ও গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ গ্রামীণ অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।