বেরোবির ২২ বিভাগে মাত্র ২৭ অধ্যাপক

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  গাজী আজম হোসেন, বেরোবি

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) অধ্যাপক ছাড়াই চলছে নয় বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০৪ জন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ২৭ জন অধ্যাপক থাকায় একাডেমিক মান, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বেরোবির ২২টি বিভাগের মধ্যে ১৩টি বিভাগে মোট ২৭ জন অধ্যাপক কর্মরত রয়েছেন। বাংলা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬ জন অধ্যাপক রয়েছেন। এছাড়া গণিত, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, মার্কেটিং ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ৩ জন করে এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ২ জন অধ্যাপক রয়েছেন।

অর্থনীতি, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, রসায়ন, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে রয়েছেন একজন করে অধ্যাপক। অন্যদিকে ইংরেজি, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, লোকপ্রশাসন, পরিসংখ্যান, ভূগোল ও পরিবেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস (এমআইএস) বিভাগে কোনো অধ্যাপক নেই। এর মধ্যে এমআইএস বিভাগে একজন সহযোগী অধ্যাপকও নেই। সংশ্লিষ্টদের মতে, অধ্যাপকের অভাবে বিভাগগুলোতে অভিজ্ঞ শিক্ষকের একাডেমিক দিকনির্দেশনা, গবেষণা তদারকি এবং উচ্চশিক্ষাভিত্তিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিভাগীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও গবেষণা পরিচালনায়ও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

একাধিক শিক্ষার্থী জানান, সিনিয়র শিক্ষকের সংকটের কারণে আমরা গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ও একাডেমিক পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। বিশেষ করে থিসিস, গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ শিক্ষকের দিকনির্দেশনা পাই না। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ২০৪ জন। সে হিসেবে প্রতি ৪২ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন একজন শিক্ষক। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা। বেরোবিতে শিক্ষক সংকটের কারণে একজন শিক্ষককে গড়ে ৮ থেকে ১০টি কোর্স পরিচালনা করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলে গবেষণায় পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না অনেক শিক্ষক। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমও কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী মুরসালিন সাকিব বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট বিদ্যমান। এর পাশাপাশি অধিকাংশ বিভাগে অধ্যাপকের সংখ্যাও অত্যন্ত সীমিত। ফলে শিক্ষার্থীরা অভিজ্ঞ ও গবেষণামুখী শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর প্রভাব শিক্ষার মানের ওপরও পড়ছে। একই সঙ্গে গবেষণা কার্যক্রম, উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি এবং দেশ-বিদেশের স্কলারশিপ অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও ধারণা গড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অগ্রগতি ও বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থানও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছে না। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মালিহা মেহজাবিন বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো শিক্ষক সংকট। বর্তমানে ২২টি বিভাগে প্রায় সাড়ে আট হাজার শিক্ষার্থী থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা অনেক কম। ফলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত একাডেমিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একজন শিক্ষককে একাধিক ব্যাচ ও বিভিন্ন কোর্স পরিচালনা করতে হয় এতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে তাদের। এছাড়া অধিকাংশ বিভাগে অধ্যাপক ও পিএইচডিধারী শিক্ষকের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাবের কারণে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণার দিকনির্দেশনা এবং আধুনিক জ্ঞানচর্চার পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছে না। এর ফলে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, পদ সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

যখন এই বিভাগগুলো চালু হয়, তখন প্রতিটি বিভাগে একজন করে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে সে সময় অধ্যাপক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা আমার জানা নেই। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা অনেক কম। একাডেমিক মানোন্নয়নের জন্য বিষয়টি ইউজিসিকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।