চরের মানুষের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয়ের দাবি

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা এলাকা দুধকুমার নদের ভাঙন থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকার শনিবার দুপুরে দুধকুমার নদের তীরে তীব্র ভাঙনকবলিত এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় নদীভাঙনের শিকার প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আখের, দপ্তর সম্পাদক হুমায়ুন কবির, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ইউসুফ, সহ-সভাপতি ইয়াসিন আলী এবং কচাকাটা থানা কমিটির সভাপতি সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস চঞ্চল প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, শুধু দুধকুমার নদী নয়, কুড়িগ্রাম জেলার ১৬টি নদ-নদীর প্রায় ৩৬টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন চলছে। গত ১০ বছরে জেলায় লক্ষাধিক মানুষ তাদের বসতভিটা হারিয়ে ঠিকানা বদল করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকারি কোনো দপ্তরেই এই বাস্তুচ্যুত মানুষের সঠিক হিসাব নেই। এমনকি নতুন করে যারা নদীভাঙনের শিকার হচ্ছেন, তাদেরও কেউ খোঁজ রাখছে না। বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পৃথিবীর বহু দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। অথচ আমাদের দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ তো দূরের কথা, ন্যূনতম সরকারি সহায়তা বা খোঁজখবরও পান না। চরের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও স্থায়ী অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বেবু আরও বলেন, ‘পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘ ৩৬ বছর আন্দোলন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নত হয়েছে। দেশের চরাঞ্চলের কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এখন ‘চর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।’ সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে পাইকডাঙ্গা এলাকায় দুধকুমার নদের ভাঙনরোধে স্থায়ী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।