খোকসায় গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজননকেন্দ্র ২৪ বছর ধরে বন্ধ

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এএইচএম আরিফ, কুষ্টিয়া

অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রায় দুই যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থায়ীভাবে নির্মিত দুটি গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র। বর্তমানে কেন্দ্রগুলোর ভবন পরিত্যক্ত স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। ফলে এলাকার কৃষক ও খামারিরা প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে খোকসা উপজেলায় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অধীনে ৯টি ইউনিয়নে কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র চালু করা হয়। এর মধ্যে জয়ন্তী হাজরা ও আমবাড়িয়া ইউনিয়নে স্থায়ী কেন্দ্র এবং বাঁকি সাতটি ইউনিয়নে অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। যারা মাঠ পর্যায়ে গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজননসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। কেন্দ্র চালুর কয়েক বছর যেতে না যেতেই স্থায়ী দুইটি কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। বর্তমানে স্থাপনাগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি সেবা না থাকায় তারা পল্লী চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। আবার ইউনিয়ন পর্যায়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ থেকে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের থেকেও প্রয়োজনীয় সেবা সবসময় পাওয়া যায় না। এ সুযোগে পল্লী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় খামারী শাহজাহান আলী বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের কেন্দ্রগুলোতে কোনোদিন ডাক্তার আসতে দেখি না। প্রয়োজনের সময় সেবা পাওয়া যায় না। ফলে আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছি। শিমুলিয়া এলাকার আরেক খামারি রাকিব হোসেন জানান, সরকারি নির্ধারিত খরচের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী কৃত্রিম প্রজননের ক্ষেত্রে যাতায়াত ভাতা ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩১৫ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। খামারি জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, সরকারি কোনো সহযোগিতা আমরা ঠিকমতো পাই না। প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করলেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন মেলে না। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে কিনতে হয়।

জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম খান বলেন, সরকারি জমির ওপর নির্মিত এই কেন্দ্রটি বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে আছে। বর্তমানে জমিটির মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা উচিত।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, খোকসা উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ২১০টি গাভী রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ গাভীর প্রজনন কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে এবং বাঁকি ১০ শতাংশ ষাঁড়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

খোকসা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোহেল রানা বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থায়ী দুটি কেন্দ্র রয়েছে। এ বিষয়টি অবগত হয়ে আমি স্থান পরিদর্শনও করেছি। আমাদের অফিসে এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র নেই। মাঠপর্যায়ে প্রজননকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে সেবা দিয়ে থাকেন।

খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না।