রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দাবি

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় মানবিক কার্যক্রমে স্থানীয় সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

‘সুন্দর আগামীর নির্মাণে শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সম্মান’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব দাবি জানান। কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) ও কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১৬ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। তবে আন্তর্জাতিক মানবিক তহবিল কমে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে পরিচালিত কার্যক্রমের গুরুত্ব বেড়েছে।

২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) অনুযায়ী কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর জন্য ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু জুন ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া গেছে মাত্র ৩৬৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার, যা মোট চাহিদার অর্ধেকেরও কম। অথচ জেআরপি বাস্তবায়নে স্থানীয় এনজিওগুলোর অংশগ্রহণ সীমিত রাখা হয়েছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান মানবিক সাড়াদান প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ ঘোষিত ‘হিউম্যানিটারিয়ান রিসেট’-এর মূল নীতিগুলোর যথাযথ প্রতিফলন নেই। এ নীতিতে স্থানীয় নেতৃত্বাধীন ও বৈশ্বিকভাবে সমর্থিত মানবিক কার্যক্রম, শক্তিশালী অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় ও জাতীয় সংগঠনগুলোর জন্য পুল ফান্ডের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) প্রদত্ত ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিলের ৯২ শতাংশ জাতিসংঘের সংস্থা এবং ৮ শতাংশ আন্তর্জাতিক এনজিও পেয়েছে; স্থানীয় সংগঠনগুলো সরাসরি কোনো অর্থায়ন পায়নি।