সমবায় সমিতির টাকা ফেরত চান গ্রাহকরা

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ময়মনসিংহ ব্যুরো

চার বছর পার হলেও এখনো কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাননি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার হাজারো গ্রাহক। দীর্ঘদিনের আন্দোলন, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক এবং নানা কর্মসূচির পরও সমাধান না হওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে চরম হতাশা, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদারগঞ্জসহ জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত আল-আকাবা, শতদল, স্বদেশ, নবদ্বীপ, হলি টার্গেট ও রংধনুসহ অন্তত ২৩ থেকে ২৯টি সমবায় সমিতির মাধ্যমে প্রায় ৩৫ হাজার গ্রাহকের বিপুল পরিমাণ আমানত আটকে রয়েছে। সরকারি হিসাবে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের দাবি, প্রকৃত অঙ্ক দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি। ভুক্তভোগীরা জানান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এসব সমবায় সমিতি গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে। কিন্তু ২০২২ সালের শেষ দিকে সমিতিগুলোর পরিচালক ও মালিকপক্ষ হঠাৎ আত্মগোপনে চলে গেলে আমানতকারীরা চরম সংকটে পড়েন।

অর্থ ফেরতের দাবিতে ‘সহায়ক কমিটি’র ব্যানারে গ্রাহকরা গত চার বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এ সময় মশাল মিছিল, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, হরতাল, অমরণ অনশন এবং উপজেলা পরিষদ ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এমনকি সরকারি অফিসে তালা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু এতসব কর্মসূচির পরও অধিকাংশ গ্রাহক তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাননি। এদিকে কিছু অর্থ এখনও মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভল্টে পড়ে রয়েছে। জানা গেছে, শতদল বহুমুখী সমবায় সমিতির ৯৯ লাখ এবং আল-আকাবা সমবায় সমিতির ৫০ লাখ টাকাসহ মোট প্রায় দেড় কোটি টাকা দীর্ঘদিন ধরে থানার হেফাজতে সংরক্ষিত আছে। তবে এই অর্থ গ্রাহকদের মধ্যে বণ্টনের বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মালিকপক্ষ ও সহায়ক কমিটির সমন্বয়ে টাকা থানার ভল্টে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে আর কোনো অর্থ জমা হয়নি। এ টাকাগুলো গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক বীনা বেগমে বলেন, আন্দোলনের শুরুতে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়নি। বরং আন্দোলনের ভেতরে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও বিভক্তি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের দুই পক্ষের বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক শিবলুল বারী রাজু। অন্যদিকে মাফিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আরেকটি পক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে পাল্টা কর্মসূচি পালন করে। দুইপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে বলে মনে করছেন সাধারণ গ্রাহকরা। যদিও পরবর্তীতে দ্বন্দ্ব মিটেছে বলে শোনা যাচ্ছে। একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, আমরা শুধু আমাদের টাকা ফেরত চাই। কিন্তু এখনে রাজনৈতিক নেতাসহ আন্দোলন কমিটির নামে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। এতে আমাদের সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না। জেলা সমবায় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতিগুলোতে গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু মাদারগঞ্জ উপজেলাতেই আমানতের পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। এছাড়া ইসলামপুর, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ী ও জামালপুর সদর উপজেলার অসংখ্য গ্রাহক একই সমস্যায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, সমবায় সমিতির আর্থিক অনিয়ম তদন্ত ও অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। জেলা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী জানান, আন্দোলন কমিটি বর্তমানে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।এতোগুলা টাকা উদ্ধারে বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত করে দায়ীদের সম্পত্তি বায়জাপ্তসহ অনেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিন্তু সমাধান মিলছে না। শতদল বহুমুখী সমিতির পরিচালক মোস্তাফিজ জানান, আমাদের যে যেমনভাবে পারছে নিয়ন্ত্রণ করছে।