নারায়ণগঞ্জে ৩ লাখ ৩৫ হাজার শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ জেলায় আগামী ২৮ জুন (রবিবার) জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৮ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। জেলার ৫টি উপজেলায় (নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকা ছাড়া) এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১ হাজার ৫৬টি স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মুহাম্মদ মশিউর রহমান। এ সময় তিনি জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল বাস্তবায়নে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবজনিত অপুষ্টি ও শিশুমৃত্যুর হার কমানোর লক্ষ্যে দেশব্যাপী এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এদিন ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৪১ হাজার ৬৯২ শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লাখ আইইউ) এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ৯৩ হাজার ৫০৬ শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লাখ আইইউ) খাওয়ানো হবে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সম্পূর্ণ নিরাপদ। এর উল্লেখযোগ্য কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি নেই। তাই অভিভাবকদের উচিত নির্ধারিত দিনে তাদের সন্তানদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো।

ডা. মশিউর রহমান বলেন, ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মী, শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবকসহ মোট তিনজন করে দায়িত্ব পালন করবেন। এ লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি, ওরিয়েন্টেশন এবং পরিকল্পনা সভা সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জনগণকে সচেতন করতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং, বাড়ি বাড়ি প্রচারণা এবং জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়েও টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও মোবাইল ফোনে বার্তার মাধ্যমে প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, ক্যাম্পেইনের দিন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার মসজিদগুলোতে জুমার খুতবার আগে ও অন্যান্য সময়ে মুসল্লিদের এ বিষয়ে অবহিত করার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল এবং জেলার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।