কিশোর রামিজ হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা শহর থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে অপহৃত রামিজ মিয়া (১৫) নামে এক কিশোর হত্যা মামলার প্রধান আসামি লালটু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানাধীন নলিয়া গ্রামের রেল স্টেশন জামালপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও অপহৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন সন্ধ্যায় উপজেলা শহর এলাকা থেকে রামিজ মিয়াকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এরপর অপহৃত কিশোরের প্রবাসী বাবার কাছে মুঠোফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবিকৃত মুক্তিপণ না পেয়ে অবশেষে ৩ দিন পর গত ৮ জুন রাতে সদর উপজেলার কুতুবপুর লাল ব্রিজ মাঠ সংলগ্ন অর্জুন খালের পাশে জনৈক মজিদের জমির পুকুর সংলগ্ন স্থানে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে অপহরণকারীরা। এরপর পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। গত ১৩ জুন দুপুরে পুকুর থেকে তার গলিত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। দীর্ঘ ১৮ দিন পর শুক্রবার সন্ধ্যায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও সদর থানা পুলিশের ইন্সপেক্টর হোসেন আলী সঙ্গীয় ফোর্স সহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজবাড়ী বালিয়াকান্দি থানা পুলিশের সহযোগিতায় নলিয়া গ্রামের রেল স্টেশন জামালপুর বাজার এলাকা থেকে সদর উপজেলার শিবপুর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী একাধিক হত্যা মামলার আসামি লালটু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার (২৭ জুন) সকালে তাকে চুয়াডাঙ্গা আদালতে হাজির করে জবানবন্দী রেকর্ড করে প্রশাসন। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত লালটু মিয়া চিহ্নিত সন্ত্রাসী তার বিরুদ্ধে থানায় তিনটি হত্যা সহ একাধিক মামলা রয়েছে। আদালতে রামিজ মিয়া হত্যার কথা স্বীকার করেছে হত্যাকারী লালটু মিয়া। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান বলেন, এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ও হৃদয় বিধায়ক ঘটনা। তথ্য প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে আমরা প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
