দখল-দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে সুন্দরী খাল
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
রঞ্জন কৃষ্ণ পন্ডিত, টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের করটিয়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘সুন্দরী খাল’ মূলত করটিয়া জমিদার পরিবারের নৌপথে যাতায়াতের প্রধান পথ ছিল। পূর্বে সুদৃশ্য পানসি ও নৌকা চলাচলের এ খালটি দখল ও দূষণের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়ে সৌন্দর্য হারাচ্ছে ।
জানাযায়, ঐতিহ্যবাহী একসময়ের খরস্রোতা ‘সুন্দরী খাল’ প্রভাবশালীদের দখল দৌড়াত্বে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রয়োজন মত বিভিন্ন জায়গা দখল করে নিয়েছেন। এছাড়া হাটসংলগ্ন খালের জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে শতাধিক অবৈধ পাকা স্থাপনা। সরকারি সা’দত কলেজসহ আশপাশের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী-শিক্ষক প্রতিদিন ওই খালের পাশ দিয়ে চলাচল করেন। স্থানীয়দের ফেলা ময়লা আবর্জনায় ঐতিহ্যবাহী এ খালটি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এসব বর্জ্যের দুর্গন্ধ সহ্য করে পথচারীদের নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। নাকে রুমাল বা মাস্ক ছাড়া এ রাস্তায় চলা যায় না। এতে সুন্দরী খালের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার পথে।
স্থানীয়রা বলেন, টাঙ্গাইল সদরের করটিয়ার সুন্দরী খালটি একসময় স্থানীয় জমিদার ও পরিবারবর্গের নৌপথে যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিল। সে সময় এ খাল দিয়ে পানসি নৌকাসহ বড় বড় জাহাজও চলাচল করত।
সময়ের বিবর্তনে খালটির স্রোত ধারা হারিয়ে গেছে। অবৈধ দখলদারদের কালো থাবায় এটি এখন মৃতপ্রায়। যেটুকু রয়েছে, তাও পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। বর্জ্য ফেলায় পরিবেশ মারাত্মক হুমকিতে রয়েছে সুন্দরী খালের। দ্রুত সংস্কারে দাবী জানান তারা।
করটিয়া হাটে প্রায় ১৮শ” দোকান আছে। এসব দোকানের ময়লা খালে নিয়ে ফেলেন। খালের দুই তীরে কেউ কেউ পাকা ঘর নির্মাণ করেছে। অবশিষ্ট অংশে ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য ফেলায় পরিবেশ মারাত্মক হুমকিতে রয়েছে।
খাল পাড়ে দেখা হয় এক গৃহবধুর সাথে তিনি বলেন, তার বাড়ী খাল পাড়ে। করটিয়া থেকে পূর্ব পাশে দক্ষিন সাইট দিয়ে সুন্দরী খাল থেকে বাদলের বাড়ীর সামন দিয়ে স্লুইচ গেট পর্যন্ত একটি শাখা খাল গিয়ে ছিল। ওই শাখা খালও সর্ম্পুণ ভরাট করে গড়ে উঠেছে ঘর বাড়ি। সুন্দরী খালের দুই তীরে গড়ে উঠেছে স্থাপনা। করটিয়া হাটের অংশে খালের পাশে স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। কেউ কেউ পাকা ঘরও নির্মাণ করেছেন। অবশিষ্ট অংশে ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য ফেলায় পরিবেশ মারাত্মক হুমকিতে রয়েছে। সোলালিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদ জানান, আগে এ খাল দিয়ে নৌকা নিয়ে করটিয়া হাটে আসা-যাওয়া করতেন। খালে এখন আর পানি থাকে না। আশপাশের বাড়ির, হোটেলের ময়লা-আবর্জনা খালে ফেলা হয়। কিছু জায়গা দখলও হয়েছে। যাদের ক্ষমতা বেশি তারাই দখল করেছেন। এত বড় খালটি এখন কত ছোট হয়ে গেছে।
ইতোপূর্বে খালটি খননের জন্য বারবার উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে তার কোন সুফল মানুষের চোখে পড়েনি। জনশ্রুতি আছে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনসারী খনন প্রকল্প অনুমোদন করে নামমাত্র কাজ করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেছে। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো.মাহবুব হাসান জানান,সুন্দরী খাল দখল দূষণের বিষয়ে অবগত নন। সরেজমিনে তদন্ত করে দখলদার মুক্ত এবং সুন্দরী খালের প্রাচীনি ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
