ত্রিশালে বকনা বাছুর বিতরণ

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ত্রিশালে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে ছয়জন নারী-পুরুষের মধ্যে বিনামূল্যে ছয়টি বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শশী ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে পরিচালিত আয়বর্ধক কর্মসূচির প্রথম কিস্তির আওতায় এসব বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়।

এর আগে উপকারভোগীদের পশুপালন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ, পরিচর্যা ও খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের হাতে বকনা বাছুর তুলে দেওয়া হয়, যাতে তারা গবাদিপশু পালন করে আয় বৃদ্ধি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে বকনা বাছুর তুলে দেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী।

শশী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম কিরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজনীন সুলতানা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি মোখছেুর রহমান আশেকী এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছুজ্জামান মৃধাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়বর্ধক কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে উপকারভোগীরা যদি বাছুরগুলো সঠিকভাবে লালন-পালন করেন, তাহলে ভবিষ্যতে তারা নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হবেন। শশী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম কিরণ বলেন, উপকারভোগীদের শুধু বাছুর দিয়েই দায়িত্ব শেষ নয়। নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শের মাধ্যমে তাদের সফল খামারি হিসেবে গড়ে তুলতে শশী ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

উপকারভোগীরা এ উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন ও শশী ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাছুরগুলো যথাযথভাবে লালন-পালনের মাধ্যমে নিজেদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।