নবীনগরে কাঁঠালের ফলন ভালো, দামও কম

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ইব্রাহীম খলিল, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল। এ দেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া এ ফল চাষের জন্য উপযোগী। এর আদি নিবাস হিসেবে ধরা হয় ভারত, বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এ বছর কাঁঠালের ভাল ফলন হয়েছে। কাঁঠালের জন্য এক সময় এই অঞ্চলে মানুষ নরসিংদী, কুমিল্লা বা পার্শ্ববর্তী বিজয়নগর ও কসবার উপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমানে স্থানীয় ভাবে কাঁঠালের উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় সে প্রয়োজন অনেকটা কমে এসেছে। স্থানীয় বাজার গুলোতে এ বছর প্রচুর কাঁঠালের দেখা মিলছে, দাম ও তুলনা মূলক ভাবে কম। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনা, সড়কের ধারে থাকা গাছ গুলোতেও ঝুলছে প্রচুর কাঁঠাল।

কাঁঠাল এখন শুধু পাকা ফল হিসেবে নয়, কাঁচা অবস্থায়ও তরকারি এবং মাংস রান্নার উপকরণ হিসেবে ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর বীজও ভাজা, রান্না কিংবা ভর্তা করে খাওয়া হচ্ছে- অর্থাৎ কাঁঠাল এখন ঘরে ঘরে নিত্যদিনের খাদ্য তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। কাঁঠাল একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল, যা নানা ধরনের ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ।

কাঁঠালে আছে ক্যালোরি (শক্তি), পানি, প্রোটিন, চর্বি, কার্বোহাইড্রেট, আঁশ, চিনি, ভিটামিন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রণ , ফসফরাস। এটি হজমে সহায়ক, ত্বক ও চুল ভালো রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

নবীনগর সদর বাজারের কাঁঠাল বিক্রেতা মোমেন মিয়া জানান, বাজারে এবার কাঁঠালের পরিমাণ আগের চেয়ে বেশি। এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এই বছর কাঁঠালের উৎপাদন অনেক বেড়েছে। কৃষকরা খাওয়ার পাশাপাশি বাজারজাত করে লাভ হচ্ছেন। বাংলাদেশে প্রচলিত কাঁঠালের জাতগুলোর মধ্যে স্থানীয় জাতের খাজা, গালা ও খাসিয়া কাঁঠাল। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত উন্নত জাত বারি কাঁঠাল-১ ও বারি কাঁঠাল-২. সাধারণত একটি মাঝারি আকৃতির কাঠাল গাছে ৫০-৮০টি কাঠাল ধরে। তিনি আরও বলেন- ‘আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি বারি কাঁঠাল-১ রোপনের জন্য। কারণ এটি অধিক লাভজনক ও বাজারযোগ্য।

কাঁঠালের ভাল ফলন পেতে হলে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি জমে গেলে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং খরা মৌসুমে প্রতি ১৫-২০ দিন পরপর সেচ (পানি) দিতে হবে। নবীনগরে এ বছরের কাঁঠালের ব্যাপক ফলনে ভোক্তারা পাচ্ছেন কাঁঠালের স্বাদ, পুষ্টি এবং অর্থের সাশ্রয়।