দীপেন দেওয়ান এমপিকে সংবর্ধনা

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রাঙামাটি প্রতিনিধি

নিজ এলাকায় বীরোচিত সংবর্ধিত হলেন সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। পদত্যাগের এক মাস পর গতকাল বুধবার নিজ নির্বাচনী এলাকা রাঙামাটিতে আসেন এডভোকেট দীপেন দেওয়ান। এসময় নিজ জেলায় প্রবেশের পথে পথে দীপেন দেওয়ানকে মিছিল, শ্লোগান আর ফুল দিয়ে বরণ করে নেন নেতা কর্মীরা। জেলার প্রবেশ মুখ বেতবুনিয়া থেকে গাড়ি বহরে বেষ্টিত হয়ে দীপেন দেওয়ান বুধবার দুপুরে কাঠালতলীস্থ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আসেন। আবেগঘন পরিবেশে দীপেন দেওয়ান নেতা কর্মীদের সংবর্ধনার জবাবে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বলেন, বিএনপি নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে আছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান। তার সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আমি তারেক রহমানের নেতৃত্ব মেনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। মন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগে হতাশ না হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি এখনো সংসদ সদস্য আছি। আমি আপনাদের সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চালিয়ে যাবো।

দীপেন দেওয়ান আরো বলেন, বিএনপিকে নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করা হবে না। যে কোন ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিতে নেতা কর্মীদের প্রতি আহবান জানান তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে আমার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে যে আবেগ, উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে আমি গভীরভাবে অবগত রয়েছি।

আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল পাহাড়ি, বাঙালি এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি যে, আপনারা শান্ত থাকুন, ধৈর্য ধারণ করুন এবং আইন-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন। কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখুন।

আমি বিশ্বাস করি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের সবার। এই অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও আমাদের সবার। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সকল জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় হোক- এটাই আমার প্রত্যাশা। আমি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করছি, আমার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার আদর্শ, দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা আমার রাজনৈতিক জীবনের প্রেরণা। আমি দেশনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহ, দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমি বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছি।

আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আমার রাজনৈতিক আদর্শের ঠিকানা। আমি জীবনের অবশিষ্ট সময়ও এই প্রিয় দল, এর আদর্শ এবং দেশের জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে যেতে চাই। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমি দলের প্রতি আমার আনুগত্য ও অঙ্গীকার অটুট রাখব। এই দল আমি কখনো ত্যাগ করব না।

আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জনগণের কাছে আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। মত-পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ নয়, প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু সংঘাত নয়।

আমার একান্ত কামনা, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করুক, উন্নয়নের সুফল ভোগ করুক এবং এই অঞ্চল সম্প্রীতি, স্থিতিশীলতা ও শান্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে উঠুক। পদত্যাগের পরও পথে পথে বীরোচিত সংবর্ধনা।

উল্লেখ্য এর আগে দীপেন দেওয়কন ১ জুন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী পদ থেকে শারিরীক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে দীপেন দেওয়ান ঢাকায় বাস ভবনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তিনি জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে যোগ দেন। সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার তিন মাসের মাথায় পদত্যাগ করেন দীপেন দেওয়ান। তার পদত্যাগের ঘটনায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ প্রত্যাহার করে তাকে স্বপদে বহালের জন্য আন্দোলন করে তার কর্মী সমর্থক সহ বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।