যমুনায় ভাঙন অব্যাহত, ঝুঁকিতে ফসলি জমি ও স্থাপনা

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কাজী বাবলা, পাবনা

পাবনায় যমুনা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ফলে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে মসজিদ, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, আবাদি জমি ও বসতভিটা। জানা গেছে, পাবনা জেলার বেড়া উপজেলাধীন পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়নের কল্যাণপুর চর, চর সিংহাসন, বক্তারপুর ও নতুনভারেঙ্গা ইউনিয়নের চকপাড়া এলাকায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে জনসাধারণের মধ্যে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন), মসজিদ, বসতবাড়িসহ শত শত বিঘা ফসলি জমি। অতিদ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে ভাঙনকবলিত অঞ্চলগুলোর কয়েক হাজার মানুষ চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যমুনা নদীর ভাঙন দেখা দিলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কল্যাণপুর চর যা ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ভাঙনের স্থান থেকে স্থানীয় মসজিদ আনুমানিক ২০০ ফুট, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন) প্রায় ৪০০ মিটার ও সাবমেরিন ক্যাবল মাত্র ৫০ ফুট দূরে অবস্থিত। এই সাবমেরিন ক্যাবলটি ভাঙনের কবলে পড়লে চরের হাজারো মানুষ বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও প্রতিনিয়ত নদীর তীর ধসে পড়ায় হুমকির মুখে পড়েছে মসজিদ, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন), ফসলি জমি ও বসতবাড়ী। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলমান ভাঙনে গত একমাসে প্রায় ২০০ বিঘা ফসলি জমি যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে অনেক কৃষক তাদের আবাদি জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। একদিকে যেমন মূল্যবান কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি, মসজিদ এবং বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে অদূর ভবিষ্যতে স্থানীয় মসজিদ ও বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

এছাড়াও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বর্ষার বাকি সময়জুড়ে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাই ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা। কল্যাণপুর চরের একজন কৃষক বলেন, ‘গত এক মাসে যমুনা নদীর ভাঙনে আমার প্রায় ৪ বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর আগেও কয়েক বিঘা জমি ভাঙনের শিকার হয়েছে। এখন চাষাবাদ করার মতো কোনো জমি অবশিষ্ট নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে আমি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি।

পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়নের মেম্বার রেজাউল করিম বলেন, ‘গত এক মাসে শুধু কল্যাণপুর চর এলাকাতেই প্রায় ১০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে চরের কৃষি শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নাধীন চকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আরমান আলিফ বলেন, ‘যমুনার ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।

সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধ করবো ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ শেখ বলেন, নদী ভাঙনের শিকার হয়ে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভাঙন রোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও পাবনা-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট একেএম সেলিম রেজা হাবিব সাহেবকে অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বেড়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। ভাঙনের ঝুঁকি বিবেচনায় কল্যাণপুর চরসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে দুটি প্যাকেজের আওতায় প্রায় ১২ হাজার জিওব্যাগ নিক্ষেপ করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ভাঙনরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত প্যাকেজ গ্রহণ এবং জিওব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।