ময়মনসিংহে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহে মাদকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে তিন উপজেলায় পৃথক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে একাধিক মাদকসেবীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্দেশনায় গত শুক্রবার রাত ও গতকাল শনিবার পরিচালিত এসব অভিযানে মাদক সেবন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বড়খিলা গ্রামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানে মাদক সেবনের দায়ে একজনকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই দিন দুপুর ১টার দিকে ত্রিশাল উপজেলার সাখুয়া ইউনিয়নের নওপাড়া বারোতোপা এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে মো. আকরামুল ইসলাম (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে মাদক সেবন করে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করার দায়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এদিকে, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নের পিডিবি বাজার এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ তাকী তাজওয়ারের নেতৃত্বে আরেকটি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। এ সময় মাদকদ্রব্য সেবন ও প্রয়োগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার দায়ে একজনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া আরও দুই ব্যক্তিকে সাত দিনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে অতিরিক্ত তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক সেবন, বিক্রি, বহন কিংবা এ-সংক্রান্ত যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন নয়, একটি পরিবার ও সমাজকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার ও সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মাদকসংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মাদক, সন্ত্রাস ও জনশৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ড দমনে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
