টাঙ্গাইলে সাতদিন পাঁচ খুন
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলে তিন উপজেলায় গত ৭দিনে ৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ি বাজারে শনিবার রাতে এক ব্যাবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
গতকাল রোববার সকালে মাসুদ মিয়া (৪৫) নামে এক মুদি দোকানির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের লাল মাহমুদের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, গতকাল রোববার ভোরে ইউপি সদস্য ফরহাদ আলীকে বিষয়টি জানালে তিনি ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশকে অবগত করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহতের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
এরআগে, গত ১জুলাই (বুধবার) নিখোঁজের একদিন পর সখিপুর উপজেলা হাসপাতাল গেটের দক্ষিণে তার নিজ বাড়ীর পাশের ডোবা থেকে পারভীন আক্তার নামে এক বিধবা নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার হাতিবান্ধা গ্রামের মৃত হুমায়ুন খানের স্ত্রী। পুলিশ ও পরিবার সুত্রে জানা যায়, নিহতের ছেলে ফাহাদ ঢাকায় চাকরির কারণে তার মা পারভীন আক্তার সখিপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের একটি বাসায় বসবাস করতেন।
এছাড়া সদর উপজেলার বিশ্বাস বেতকা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে নাজমা আলম নাজু নামে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার হয়। সোমবার (২৯ জুন) সকালে স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জেম মোশারফ হোসেন ঋণের চাপে সোনা লুট করে ওই নারীকে হত্যা করে।
হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর মোশারফ হোসেন পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়।
নাগরপুরে নিখোজ হওয়ার ৩ দিন পর পাট ক্ষেত থেকে শওকত মোল্লা (৫৫) নামের এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে নাগরপুর থানা পুলিশ। শওকত মোল্লা উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামের মৃত জয়েদ আলী মোল্লার ছেলে। বুধবার (১জুলাই) দুপুরে সহবতপুর ইউনিয়নের বিন্নাওঝা গ্রামের গাজী কবিরের পাট ক্ষেত থেকে অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর মধ্যপাড়ায় কাঁঠাল পাড়াকে কেন্দ্র করে চাচাতো দু-ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষে আবু হানিফের ছেলে ছানোয়ার মিয়া নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ২৮ জুন নিজের গাছ থেকে কাঁঠালপাড়ার সময় চাচাতো ভাইদের সাথে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আহত ছানোয়ারকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্যত্র স্থানান্তর করে। পরদিন সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়ের ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ উমর ফারুক জানান, সামাজিক মূল্যবোধের বর্তমান সমাজে অবক্ষয় ঘটেছে। এ অবক্ষয় রোধে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সচেতনতা প্রয়োজন। সমাজের তৃনমূল থেকে এসব শিক্ষা গ্রহন করতে হয়। বর্তমান প্রজন্ম বিভিন্ন মোবাইল ডিভাইসে আসক্ত হওয়ায় সামাজিক মূল্যবোধের বিপর্যয় ঘটেছে।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. আদিবুল ইসলাম জানান, বর্তমান সমাজে পারিবারিক শিক্ষার অভাবে সামাজিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে।
আগে সন্ধ্যা হলেই প্রতিটি অভিবাবক তাদের সন্তানদের খোজ নিতেন। কিন্তু এ প্রজন্মের সন্তানরা মোবাইলের বিভিন্ন ডিভাইসে আসক্ত হওয়ায় তারা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়াচ্ছে। সামাজিক অবক্ষয় রোধে প্রত্যেক অভিবাবককে সচেতনভাবে পারিবারিক শিক্ষা দিতে হবে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপও নিতে হবে।
