নড়াইলে জুলাই যোদ্ধাদের মারতে পুরস্কার ঘোষণা, থানায় অভিযোগ
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হত্যার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘দেড় লাখ টাকা পুরস্কার’ ঘোষণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পলাতক নেতাকর্মীসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে নড়াইল সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর আগে, গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নড়াইল জেলা শাখার সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে এ অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের হত্যা করতে পারলে ফেসবুকে দেড় লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পলাতক কয়েকজন নেতাকর্মী। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন- বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ নড়াইলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমান নয়ন (৩৮), সহসভাপতি সৌরভ কর্মকার (২৬), লোহাগড়া উপজেলার কুন্দসী গ্রামের বাসিন্দা ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সজিবুল ইসলাম হৃদয় (২৬), একই এলাকার শাহাদাত হোসেন রায়হান (২৫), চাচই গ্রামের ইমন শিকদার (২৪), লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিলন জমাদ্দার (২৯), মল্লিকপুর গ্রামের মো. ইস্রাফিল (২৫), কাশিপুর ইউনিয়নের কামেশ্বরপুর গ্রামের মো. সজীব চৌধুরী (২৬), কালনা গ্রামের এস কে আসলাম (২৫), নড়াইল পৌরসভার মো. আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস (৪০) এবং সদর উপজেলার চণ্ডিবরপুর ইউনিয়নের সিবানন্দপুর গ্রামের মো. জুবায়ের শেখ (২০)।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নড়াইল জেলা শাখার সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম বলেন, জুলাই মাস এলেই পলাতক ফ্যাসিবাদের দোসররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের উসকানিমূলক হুমকি দিচ্ছে। কিছুদিন আগে আমার ওপর হামলার মিথ্যা গুজবও ছড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
