ইটবাঁধা নবজাতকের লাশ উদ্ধারের রহস্য উদ্ঘাটন

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার পূর্বধলা থানাধীন কালিহর নদীতে ইট দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ভেসে উঠা এক নবজাতক কন্যা শিশুর লাশের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতিবেশীর ধর্ষণের শিকার হয়ে মাত্র ১২ বছর বয়সী এক শিশু কন্যা সন্তান প্রসব করে এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে নবজাতকের লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ধর্ষক সাজন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পূর্বধলা থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন দুপুরে পূর্বধলা থানাধীন হোগলা ইউনিয়নের কালিহরকান্দা গ্রামের কালিহর নদীতে ইট ও প্লাস্টিকের রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় একটি নবজাতক কন্যা শিশুর লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার এসআই (নিঃ) ফারুক খান বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।

মামলা রুজুর পর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং বিশ্বস্ত সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে কোনাকালিহর (মাইজপাড়া) গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে আসামী সাজন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন পুলিশ।

পরবর্তীতে ভিকটিম শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এই নৃশংস ঘটনার আসল রহস্য বেরিয়ে আসে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামি সাজন মিয়া পেশায় একজন কৃষক। ভিকটিম শিশুর মা স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ করার কারণে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বাড়ির বাইরে থাকতেন। এই সুযোগে অনুমান সাত মাস পূর্বে সকালের দিকে সাজন মিয়া ঘরে একা পেয়ে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই-তিন দিন পর পর প্রতিনিয়ত তাকে ধর্ষণ করতে থাকে, যার ফলে ১২ বছরের ওই শিশুটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। বয়সে ছোট এবং শারীরিক গঠন কম হওয়ায় প্রথম দিকে তার বাবা-মা গর্ভাবস্থার বিষয়টি টের পাননি।

গত ২৮ জুন দিবাগত রাত ১ টায় পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করার পর বসত ঘরের প্রস্রাবখানার পাশে একটি মৃত কন্যা শিশু প্রসব করে ভিকটিম।

পরে বিষয়টি তার মাকে জানালে এবং সাজন মিয়ার ধর্ষণের কথা প্রকাশ করলে, ভিকটিমের মা সাজন মিয়াকে ডেকে আনেন। সাজন মিয়া ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভিকটিম ও তার পরিবারকে নানা ভয়ভীতি দেখায়।

পরবর্তীতে ঘটনা লুকাতে সাজন মিয়ার দেওয়া একটি কালো শার্ট দিয়ে নবজাতকের মরদেহটি পেঁচিয়ে এবং রশি দিয়ে একটি ইট বেঁধে ৩০ জুন ভোরে অজ্ঞাতনাম কয়েকজনের সহযোগীদের সহায়তায় কালিহর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আসামি সাজন মিয়ার বিরুদ্ধে ভিকটিমকে ধর্ষণের অপরাধে পৃথক মামলা করা হয়েছে।