কক্সবাজারে পাহাড়ধস ও দেয়াল চাপায় দুইজনের মৃত্যু

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কক্সবাজার অফিস

টানা ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসে আরও দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজার শহর থেকে অনতিদূরের দরিয়া নগর ও উখিয়া উপজেলার হলুদিয়া পালং ইউনিয়নে পৃথক ঘটনায় একজন নারী ও এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়। এনিয়ে গত দুইদিনে জেলায় পাহাড় ধসে ১২ জনের মৃত্যু হয়। গতকার মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে শহরতলির দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড় ধসে নাসিমা আক্তার (২৭) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় তার স্বামী ও সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। উদ্ধার হওয়া নাসিমার স্বামী জসিম উদ্দিন (৪০) ও এক সন্তান গুরুতর আহত হয়েছেন। কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দরিয়ানগর বড়ছড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

অপরদিকে উখিয়ার হলুদিয়া পালং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের জামবাগান এলাকায় ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে দিনমজুর মোহাম্মদ মালেকের (৪০) মৃত্যু হয়।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার ও হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী আলাদা ভাবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসে একটি বসতঘর চাপা পড়ে। এতে নাসিমা আক্তার, তাঁর স্বামী ও সন্তান আটকা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিমা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ইউএনও বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের আগেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই সেই নির্দেশনা মানেননি।

এদিকে মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জাম বাগান এলাকার মোঃ এখলাসের বাড়িতে দেয়াল চাপা পড়ে মোহাম্মদ মালেক (৪০) এক দিনমজুর মারা যান। তিনি ওই এলাকার ছৈয়দুর রহমানের ছেলে। তার নিজ বাড়ি পার্শবর্তী পশ্চিম হলদিয়া গ্রামে হলেও জামবাগান এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, ঘটনার সময় নিহত ব্যক্তি দুপুরের খাবার খেতে বসেন। ওই সময় অতিবৃষ্টির কারণে ঘরের মাটির দেয়াল ধসে মালেক দেয়াল চাপা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে বিকেল ৫টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আর কেউ আহত হননি।

ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, পরিবারটি অত্যন্ত গরিব। তাদের আয় রোজগারের তেমন সুযোগ সুবিধা ছিল না। দিনমজুরী করে সংসার চালাতেন মালেক।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।