রাঙামাটিতে ৯৭ স্থানে পাহাড়ধস

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চৌধুরী হারুন, রাঙামাটি

টানা চার দিনের বৃষ্টিতে পাহাড় ধ্বসে রাঙামাটির দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসন। রাঙামাটিতে ৯৭ স্থানে পাহাড় ধস আশ্রয়কেন্দ্রে ৪,১৬৬ জন আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে চারদিন রাঙামাটিতে টানা বৃষ্টিপাতের পর হ্রদে পানি বেড়েছে । এতে বেড়ে গেছে পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকি। বিপর্যস্ত হয়ে পগেছে জনজীবন। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় সকাল থেকে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সতর্ক অবস্থানে আছে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, রেড ক্রিসেন্ট ও রোবার স্কাউট দল। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন আশ্রয় কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে । আশ্রয় কেন্দ্রে ৪১৬৬ জন তিনবেলা খাবার দিচ্ছে । যাদের বাসা বাড়িতে গরু ছাগল হাস মুরগী আছে তারা কেউ আশ্রয় কেন্দ্রে যায়নি বলে জানা গেছে। ঘরে পানি ওঠার কারণে তারা এখনো কোন খাবার খায়নি বলে জানা গেছে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি জানান, বৈরী আবহাওয়ায় যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতির পাশাপাশি ঝুকিপূর্ণ বসতিদের সরিয়ে নিতে মাঠে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে লাগাতার বৃষ্টপাত হওয়ায় গতকাল রবিবার থেকে ঝুকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষকে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করে জেলা প্রশাসন ও রাঙামাটি পৌরসভা কতৃপক্ষ। রাঙামাটি ৯৭টি স্পটে পাহাড় ধসের খবর জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটিতে মোট ১৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৪ হাজার ১৬৬ জন। টানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় মিলিয়ে ৯৭টি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বিলাইছড়িতে ৩৭টি, কাউখালীতে ৩০টি, কাপ্তাইয়ে ১৫টি, রাঙামাটি সদরে ১০টি, বাঘাইছড়িতে ৩টি এবং নানিয়ারচরে ২টি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি গতকাল রাতে রাঙ্গামাটি সদরের পাহাড়ধসের ঝুঁকিপ্রবণ বিভিন্ন এলাকা এবং সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ও লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ নাজমা আশরাফী এবং পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব,পিপিএম মহোদয়সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রতিমন্ত্রী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত জনসাধারণের খোঁজখবর নেন এবং তাদের মাঝে খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। একইসঙ্গে তিনি এ এলাকার দুর্গত জনসাধারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক সবধরণের সহযোগিতার আশ্বাস ব্যক্ত করেন।