শিশুধর্ষণ মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

সীতাকুণ্ডে আট বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নাঈম ইরাকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শ্বাসনালি কেটে হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়া এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাবু শেখ (৫০) গাইবান্ধার জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু জানান, জান্নাতুল নাঈম ইরাকে হত্যার দায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় বাবু শেখকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৭ ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং একই আইনের ৯(৪)(খ) ধারায় ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় এলাকায় শিশু জান্নাতুল নাঈম ইরাকে হত্যা করা হয়। তদন্ত শেষে গত ১৫ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক কামরুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ১৮ জুন আদালত অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যা ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। গত ২ জুলাই উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করেন। নিহত ইরা মনি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ার টমটমচালক মনিরুল ইসলামের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইরা মনিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত বাবু শেখ। পরে সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন-সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ার কথা বললে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির গলা কেটে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ইরা মনির মা সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করেন।