চান্দিনায় ভাঙা রাস্তায় নাকাল জনজীবন

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ওসমান গনি, চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

দিন বদলায়, বছর ঘোরে, কিন্তু চান্দিনা পৌরসভার বাসিন্দাদের ভাগ্যের চাকা যেন এক জায়গায় এসেই থমকে আছে। দীর্ঘদিন ধরে এই পৌরসভার রাস্তাঘাটের অবস্থা এতটাই নাজুক যে, তা এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধুলাবালি আর খানাখন্দে ভরা রাস্তাগুলো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে।

অথচ এই নাগরিক ভোগান্তি নিরসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকরী উদ্যোগ চোখে পড়ছে না, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ এখন চরমে। গ্রীষ্মের শুষ্ক মৌসুমে কোনোমতে ধুলোবালি উড়িয়ে মানুষ চলাচল করতে পারলেও, বর্ষা নামলেই পরিস্থিতি একবারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলো যেন এক একটি ছোটখাটো খালে পরিণত হয়। তখন যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পক্ষে পায়ে হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়ে। কাদা আর পানিতে একাকার হয়ে যাওয়া রাস্তাগুলো দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ, শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য এই রাস্তাগুলো যেন এক একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো ন্যূনতম পরিবেশটুকুও এখন আর অবশিষ্ট নেই। খানাখন্দে ভরা সড়কে রিকশা বা ইজিবাইক উল্টে গিয়ে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

পৌরবাসীর প্রধান ক্ষোভের জায়গাটি হলো তাদের নিয়মিত কর পরিশোধের বিষয়টি। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, তারা প্রতি বছর নিয়মিতভাবে পৌরসভাকে কর এবং অন্যান্য ফি পরিশোধ করে আসছেন। নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে এবং স্থানীয় সরকারের কাছে তাদের যে অধিকার, তা থেকে তারা ক্রমাগত বঞ্চিত হচ্ছেন। করদাতার দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করলেও পৌরসভা থেকে যে ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বা সেবা পাওয়ার কথা ছিল, তা এখন আর আশানুরূপ মিলছে না। ভাঙা রাস্তাঘাট সংস্কারের দাবি নিয়ে বারবার পৌর কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলছে না কোনো স্থায়ী সমাধান। বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসের বাণী শুনেই দিন পার করতে হচ্ছে তাদের।

একটি আধুনিক পৌরসভার প্রধান শর্তই হলো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ড্রেনেজ নিষ্কাশন। কিন্তু চান্দিনা পৌরসভার ক্ষেত্রে এই মৌলিক চাহিদাটিই যেন উপেক্ষিত রয়ে গেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে বৃষ্টির পানি দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় জমে থাকে, যার ফলে পিচঢালা পথগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি করছে। সামান্য বৃষ্টিতেই তৈরি হওয়া কৃত্রিম এই জলাবদ্ধতা পুরো এলাকার জনজীবনকে স্থবির করে দেয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বেহাল রাস্তার কারণে তাদের মালামাল আনা-নেওয়া করতে যেমন অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে, তেমনি যাতায়াত ব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে বাজারে ক্রেতাদের সমাগমও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে অর্থনৈতিকভাবেও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।

এলাকাবাসীর স্পষ্ট বক্তব্য, ট্যাক্স বা কর দেওয়ার পরও যদি যাতায়াতের মতো মৌলিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তবে এই নাগরিক পরিচয়ের সার্থকতা কোথায়? তারা আর কোনো ফাঁকা আশ্বাস বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গল্প শুনতে চান না। চান্দিনা পৌরসভার সাধারণ জনগণ এখন টেকসই ও দ্রুত সমাধান দেখতে চান। এই পরিস্থিতিতে পৌরবাসীর পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাদের বিনীত ও জোরালো দাবি, আর বিলম্ব না করে পৌর কর্তৃপক্ষ যেন অতি দ্রুত এই জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসেন। বর্ষার এই ভয়াবহ কাদা-পানির ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে এবং মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাঘাটগুলো সংস্কার করা হোক। একটি দায়িত্বশীল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে চান্দিনা পৌরসভা জনগণের করের সঠিক মূল্যায়ন করবে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে পৌরবাসীর মুখে হাসি ফিরিয়ে আনবে, এটাই এখন পুরো পৌর এলাকার সাধারণ মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা।