‘বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে’
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, শিল্পায়ন, আবাসন প্রকল্প, ইটভাটা ও অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে নারায়ণগঞ্জে ফসলি জমি, বনভূমি ও জলাশয় ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। নদী, খাল-বিল ও জলাভূমি রক্ষার পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ন নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। এ সময় তিনি পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে র্যালি, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) ঘোষিত এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল “জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা”।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও), সুশীল সমাজ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সিফাত উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক এ.এইচ.এম. রাসেদ উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোবারক হোসেন বলেন, ভূমি পুনরুদ্ধার, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
পরে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের তাৎপর্য নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রমের ওপর সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা করেন সহকারী পরিচালক মো. রাসেল মাহমুদ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন বলেন, পরিবেশ রক্ষা একক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আইন মেনে চলা এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ.এইচ.এম. রাসেদ বলেন, পরিবেশ রক্ষা সবার দায়িত্ব। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিহারে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
