ভারী বর্ষণে চরফ্যাশনের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

টানা এক সপ্তাহের বিরামহীন ভারী বর্ষণে নদীর পানির প্রবাহ বেড়ে চরফ্যাশন উপজেলার নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব অঞ্চলের মানুষের ঘর-বাড়িসহ কয়েক’শ মাছের ঘের, পুকুর, খাল ও বিল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মৎস্যচাষীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষক ও মৎস্যচাষীদের প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলাকাবসীর অভিযোগ বেড়িবাঁধের স্লুইসগেট বন্ধ রাখার কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে পানির প্রবাহ বেড়ে ঘর-বাড়ি, পুকুর-নালা, মাছের ঘের পানির নিচে তলিয়ে যায়।
জানা যায়, আসলামপুর, চরমাদ্রাজ, হাজারীগঞ্জ, জাহানপুর, চরমানিকা ও নীলকমল ইউনিয়নের বাংলাবাজার ঘোষেরহাট ও চরমানিকা ইউনিয়নের চর কচ্ছপিয়া, নজরুল নগর বাবুরহাট চর নলুয়াসহ ঢালচর, কুকরি-মুকরি এবং চরপাতিলা, চর নিজামে ভারি বর্ষণের প্রভাবে নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে খাল বিল, পুকুর জলাশয় মাছের ঘের কৃষি ফসল তলিয়ে গেছে। পানিতে মাছের ঘের পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় সংসার পরিচালা নিয়ে তাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
এছাড়াও বেড়িবাঁধের একাধিক স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতার কারণে বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করে। যার ফলে হাস মুরগীর খামারসহ গবাদিপশুর খামারও পানিতে ডুবে আছে। টানা ভারী বর্ষণে উপকূলীয় মানুষের জীবন জীবিকা থমকে গেছে। মৎস্যচাষীদের অভিযোগ, উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর বেড়িবাঁধে যেসব স্লুইসগেট রয়েছে সেগুলোর কপাট সব সময় ছাড়া হয়। লিজ নেওয়া ব্যক্তিরা মাছ ধরার সুবিধার্থে অধিকাংশ সময় গেটগুলোর দরজা বন্ধ রাখে। বিশেষ করে জোয়ারের সময় খোলা রেখে অন্য সময় বন্ধ রাখে। এতে করে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি নদীতে প্রবেশ করতে না পেরে জনবসতী এলাকায় পানির পরিমান বেড়ে প্লাবিত হয়। আটকপাট, পাঁচকপাট, এক কপাটসহ চর মাদ্রাজ এলাকার নতুন বাজার স্লুইস ও পশ্চিমাঞ্চলের স্লুইসগেট অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে।
উপজেলা কৃষি ও মৎস্য অফিসসূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলার প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি কৃষিতে শাকসবজি ১২১০ হেক্টর, আমন বীজতলা ১৭০ হেক্টর মৎস্যে ২৩৬০ জন চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়াও ৩৬৭১টি ছোট-বড় মৎস্য খামার তলিয়ে গিয়েছে যার আয়তন ২১৮ হেক্টর। এছাড়া ২৭২ মেট্টিক টন মাছ এবং পোনা ভেসে গিয়েছে। উভয় ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি টাকা।
জাহানপুর ইউনিয়নের মৎস্যচাষী প্রভাষক আল আমিন হাওলাদার বলেন, তার দুই লাখ টাকার মাছের ঘেরসহ এলাকার অনেকের বাড়িঘর পুকুর নালা পানিতে ডুবে গেছে। খামারে ছাড়া মাছগুলো পানির সঙ্গে চলে গেছে। তার দাবী, লিজ নেওয়া ব্যক্তিরা স্লুইসগেটগুলো অধিকাংশ সময় বন্ধ রাখে। যার ফলে জলাবদ্ধতা হয়ে পুকুর-নালা, মাছের ঘেরসহ মানুষের বাড়ীঘর ডুবন্ত অবস্থায় রয়েছ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, অবিরাম বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে ও সংকট মোকাবিলা এবং সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
