হাটহাজারীতে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামে হাটহাজারী উপজেলার শুধু জনজীবনই নয়, কৃষি ও মৎস্য খাতেও নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। পানিবন্দি থাকার পাশাপাশি উপজেলা প্রায় প্রাথমিকভাবে ১৭০টি পুকুর-ঘের এবং ২৬৯ হেক্টরের বেশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে মাছ ও ফসলে শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব নিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষিদের পুনর্বাসনের প্রস্তুতি শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব নিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষিদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সুত্রে জানা যায়, ‘উপজেলা ১৪ ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা ও ১টি সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ডে মধ্যে বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে সবজি ৮৫ হেক্টর, আমন বীজতলা ৮০হেক্টর আউশ ধান ৯৫ হেক্টর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেঝবাহ উদ্দীন জানান, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে আমাদের উপজেলার সব এলাকায় কম বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মির্জাপর, গুমানমর্দন, ফতেপুর, ধলই, ইউনিয়ন পৌরসভার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ক্ষতক্ষতি বেশী লক্ষনীয়। প্রাথমিকভাবে আমাদের ক্ষয়ক্ষতি পরিমান আনুমানিক ৬ কোটি টাকা। এদিকে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ৮টি ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত ২২.৭৮ হেক্টর পুকুরের আয়তনে ১৭০টি মাছের পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় আনুমানিক ৯০.৯৯ মেট্রিকটন মাছ ভেসে যায়। হালদার পোনা সহ অন্য পোনার পরিমান ৬৬ হাজারটি পোনা ভেসে যায়। আনুমানিক মূল্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
এই বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১৭০টি মাছের পুকুর প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৯০ দশমিক ৯৯ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। হালদা তীরের রেণু পোনা উৎপাদনকারী হ্যাচারিগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
