পাখির গ্রাম ডাঙ্গাপাড়া

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্বপ্না আক্তার স্বর্ণালী শাহ্, নীলফামারী

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রাম এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে ‘পাখির গ্রাম’ নামে সুপরিচিত। প্রায় ৪ একর ২০ শতাংশ জায়গাজুড়ে বিস্তৃত একটি বাঁশঝাড়ে বছরের পর বছর ধরে সাদা বক, পানকৌড়ি, রাতচরা, ঘুঘু, শালিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির হাজারো পাখি নিরাপদে বসবাস করছে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই এই বাঁশঝাড়ে পাখিদের আবাস গড়ে উঠেছে এবং সেই ঐতিহ্য আজও অটুট রয়েছে।

সবুজে ঘেরা বিশাল বাঁশঝাড়টি এখন যেন পাখিদের এক স্বর্গরাজ্য। ভোরের কিচিরমিচির আর দিনের শেষে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির ফিরে আসার দৃশ্য প্রতিদিনই মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের। দীর্ঘদিন ধরে পাখিদের নিরাপদ বসবাসের কারণে গ্রামের আদি নামের চেয়ে ‘পাখির গ্রাম’ নামেই এলাকাটি অধিক পরিচিতি লাভ করেছে।

বাঁশঝাড়ের মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে তাদের পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম এই পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় সংরক্ষণ করে আসছেন। বাঁশঝাড়ের অন্যতম মালিক মাজেদুল ইসলাম বলেন, আমাদের দাদা-পরদাদার সময় থেকেই এই পাখিগুলো এখানে বসবাস করছে। আমরা সবসময় চেষ্টা করি, কেউ যেন তাদের কোনো ক্ষতি করতে না পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অসাধু শিকারিদের তৎপরতা এবং প্রয়োজনীয় সংরক্ষণের অভাবে পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরকারিভাবে এলাকাটিকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা করা হলে পাখিগুলো আরও নিরাপদ থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন,প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই পাখির গ্রাম দেখতে আসেন। গ্রামের সবাই মিলে চেষ্টা করি, যাতে কেউ পাখিদের বিরক্ত বা ক্ষতি না করে।

পাখিদের এই প্রাকৃতিক আবাসস্থল দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থী ও প্রকৃতিপ্রেমীরা ভিড় করেন। তবে পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও দর্শনার্থীবান্ধব সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথাও জানান তারা।

ভাউলাগঞ্জ থেকে আসা দর্শনার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, এখানে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। প্রতিদিন অনেক মানুষ এলেও বসার স্থানসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে বেশিক্ষণ অবস্থান করা যায় না।

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, চিলাহাটির এই পাখির আবাসস্থল পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে একটি পুকুর খননসহ কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকাটিকে আরও নিরাপদ ও পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়ার এই ‘পাখির গ্রাম’। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কার্যকর সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও এই প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য তার সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হবে।