পীরগঞ্জে কমিটি বিহীন সরঃ প্রাথঃ বিদ্যালয়গুলোর ২১টিতে নেই প্রধান শিক্ষক

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) না থাকা এবং ২১টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমে নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণ সব ক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার ২৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা কমিটি নেই। চলছে এডহক কমিটি দিয়ে। কোনটিতে সেটিও অকার্য্যকর। এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা পলিসি এন্ড অপারেশন এর পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসান গত ৩১ মার্চ/২৬ স্বাক্ষরিত এক পত্রে গত ৩০ জুনের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের জন্য বলা হলেও সে নির্দেশ কার্যকর হয়নি। পীরগঞ্জের কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এরূপ কোন কমিটি গঠন হয়নি। এদিকে বিদ্যালয়গুলোতে কমিটি না থাকায় মাঠপর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম তদারকি, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং জবাবদিহিতা চরম ব্যাহত হচ্ছে। অপর দিকে পীরগঞ্জের ২১টি বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। উপজেলার গুর্জিপাড়া, নখারপাড়া, ধনশালা, কুমারগাড়ীসহ প্রধান শিক্ষক বিহীন ২১টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে এক দিকে প্রশাসনিক দায়িত্ব, অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান- দু’ দায়িত্বই সামলাতে গিয়ে শিক্ষকদের অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে একাধিক শিক্ষক এ প্রতিনিধির কাছে অভিমত ব্যাক্ত করেন। তারা আরও বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দাপ্তরিক কাজ সামলানোর পাশাপাশি ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সময় ও মনোযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অভিভাবক নজরুল ইসলাম, সামছুল ইসলামসহ অনেকের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে। নিয়মিত অভিভাবক সভা, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

এসব ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন শাহ বলেন, শিগগিরই বিদ্যালয়গুলোর কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শেষ হবে।

আর প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদগুলোর ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে । স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন এবং শূন্য প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বা পদায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে প্রাথমিক শিক্ষার মান আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।