সাভারে ‘শারমিন’ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাভার প্রতিনিধি

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে আলোচিত শারমিন আক্তার হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তাদের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ককে বিয়েতে রূপ দিতে চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করে শারমিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে প্রেমিক ‘মাসুম ইসলাম’।

হত্যার পর মাসুম আত্মগোপনে গিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে কুড়িগ্রাম সীমান্ত থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাকে ১৪ জুলাই গ্রেপ্তার করে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এন এম মোর্শেদ।

তিনি বলেন, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর শারমিন আক্তার সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী এলাকায় কন্যাসন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। এ সময় মাসুম ইসলামের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে শারমিন বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে মাসুম তা এড়িয়ে যায়।

এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২ জুলাই মাসুম শারমিনের বাসায় এসে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যাকান্ডের পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায় মাসুম।

ঘটনার পরদিন ৩ জুলাই নিহতের বাবা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তভারের দায়িত্ব পায়।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এন এম মোর্শেদ জানায়, মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, অবস্থান বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। হত্যার পর মাসুম ইসলাম কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।

তবে পুলিশের প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে কুড়িগ্রাম সীমান্ত থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাকে ১৪ জুলাই গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। মামলার তদন্ত শেষ করে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।