আগস্টের প্রথম সপ্তাহে আমন ধানের চারা রোপণ শুরু
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
এসএম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে রোপা আমন ধানের বীজতলায় বিভিন্ন জাতের বীজ বপন শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে বীজতলায় এসব ধানের চারা গজিয়ে উঠছে। বীজতলার পরিচর্যাও শুরু হয়েছে এবং দেশীয় ধানের বীজ বপন করছেন কৃষকেরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এবার ৪ হাজার ১০০ হেক্টর বীজতলায় রোপা আমন ধানের বিভিন্ন জাতের বীজ বপনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
কৃষকেরা এরইমধ্যে বিভিন্ন জাতের ধানের বীজ নিম্নাঞ্চলসহ খাল-বিলের তীরে বপন করেছেন এবং অনেক স্থানে নলকূপ ও গভীর নলকূপের পানিতেও বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। তবে এবার বীজ বপনের সময় ভারী বৃষ্টিপাতও হয়েছে। এতে কৃষকেরা বীজ বপনে সুবিধা পেয়েছেন।
শস্যভাণ্ডার খ্যাত সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় বীজতলা বেশি। এসব ধানের বীজের মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান-৪৯, ৫১, ৭১, ৭৫, ৮৭, ৯০ ও ৯৫; বিনা ধান-২০ ও ২৬; এবং কাটিভোগ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া দেশীয় অন্যান্য ধানের বীজ বপন এখনও শেষ হয়নি। তবে এরইমধ্যে এসব ধানের বীজতলায় ৭৫ শতাংশ বীজ বপন সম্পন্ন হয়েছে। এ মাসের শেষ দিকে দেশীয় জাতের ধানের বীজ বপন শেষ হবে।
এদিকে চলতি মাসের প্রথমে এ জেলার ৯টি উপজেলার ১৪ হাজার ৫০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে উন্নত জাতের ধানের বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রদর্শনী বীজতলা পরিদর্শনও করছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। বীজতলা পরিচর্যার ক্ষেত্রেও নানা ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টিপাত হলে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা অনুসরণ করে স্থানীয় কৃষকেরা বীজতলার চারা রক্ষার্থে দিনরাত কাজ করছেন।
স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিক থেকে রোপা আমন ধানের চাষাবাদ শুরু হবে। বিভিন্ন জাতের ধানের চারা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়ে থাকে। এমনকি ধানের চারা ব্যবসায়ীরা কৃষকদের বীজতলা (প্লট) ক্রয় করে অন্যত্র বিক্রি করেন। এতে প্রতিবছরই কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়ে থাকেন।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, এ জেলায় রোপা আমন ধানের বীজতলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বিভিন্ন জাতের ধানের বীজ বেশি বপন করা হয়েছে এবং জেলায় ১৪ হাজার ৫০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
এসব বীজতলায় স্থানীয় কৃষি বিভাগ নিয়মিত নজর রাখছে এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে। এরইমধ্যে বীজতলায় ধানের চারা গজিয়ে উঠছে। এবার বীজতলায় ভালো চারা উৎপাদন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
