প্রবীণ সাংবাদিক আতাহার ইকবালের মৃত্যু

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কক্সবাজার অফিস

কক্সবাজার প্রেসক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য প্রবীণ সাংবাদিক আতাহার ইকবাল আর নেই। চুয়াত্তর বছর বয়সে তিনি গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে কক্সবাজার শহরের নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি কক্সবাজার প্রেসক্লাবের ১২ জন প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। মৃত্যুকালে ব্যাংকার স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান রেখে গেছেন তিনি। গতকাল বুধবার আসর নামাজের পর কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জামে মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে বইল্লা পাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজাপূর্ব এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বদিউল আলম, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি মাহবুবর রহমান ও আতাহার ইকবালের একমাত্র সন্তান নাফিস আবিদ প্রিয়ম। জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা মোস্তাক আহমদ। সাংবাদিক আতাহার ইকবালের লাশ কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আনা হয়। বিকাল পৌনে ৪টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত লাশ প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে রাখা হয়। এদিকে প্রবীণ সাংবাদিক আতাহার ইকবালের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, কক্সবাজার প্রেসক্লাব সভাপতি মাহবুবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাফর।

প্রবীণ সাংবাদিক আতাহার ইকবাল ১৯৫৫ সালের ৩১ আগস্ট কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা বিশিষ্ট সমাজকর্মী মরহুম ডা. আমান উল্লাহ, মা মরহুমা মুশতারি বেগম সিদ্দিকী। ১৯৭২ সালে দৈনিক গণকন্ঠের কক্সবাজার প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি আতাহার ইকবালের। ১৯৭৪ সালে পাক্ষিক তরঙ্গ সম্পাদনা করেন। ১৯৭৭ সালে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় পাক্ষিক বারুদ। ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সাপ্তাহিক সাগরবাণী প্রকাশিত হয় তার সম্পাদনায়। দৈনিক জনকন্ঠের জন্মলগ্ন থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। ১৯৯৮ সালে দৈনিক মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। ১৯৯৭ সালে দৈনিক বাঁকখালী প্রকাশনা শুরু করেন। তিনি ছিলেন এই পত্রিকার প্রধান সম্পাদক। দৈনিক বাঁকখালীর নিয়মিত প্রকাশনা শুরু হয় ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। ২০০৭ সালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি ওই পত্রিকার মালিকানা হস্তান্তর করেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে দৈনিক মিছিল, দৈনিক পূর্বকোণ, দৈনিক নয়াবাংলা, দৈনিক খবর ও দৈনিক কক্সবাজারে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। আতাহার ইকবাল ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কক্সবাজার প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। তিনি কক্সবাজার প্রেসক্লাবের রজত জয়ন্তী উৎসবে দৈনিক জনকন্ঠে প্রকাশিত একটি সিরিজ রিপোর্টের জন্য সেরা সাংবাদিকতার পুরস্কার পান। এছাড়াও তিনি স্বাধীনতার পর থেকে অসংখ্য ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন। তিনি কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত দৈনিক কক্সবাজারবাণী পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আতাহার ইকবাল জেলার বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত কণ্ঠশিল্পী। বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার ও সুরকার এবং কক্সবাজার কেন্দ্রের সংগীত প্রযোজক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার বেতার থেকে প্রচারিত ‘সাগর পাড়ের জীবন’ শীর্ষক আঞ্চলিক ভাষার ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন। তিনি ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেন এবং জাতীয়তাবাদী যুবদলের কক্সবাজার জেলা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮০ সালে যুব মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত জাতীয় যুব সংস্থার কক্সবাজারস্থ কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি জেলা যুবদল ও বিএনপি সংগঠিত করার কাজে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে ১৯৮০ সালে হিজবুল বাহারে করে ৪ দিনের সমুদ্র বিহারে যাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন।