টাঙ্গাইলে ভাইরাসের আক্রমণে পচে যাচ্ছে আখ
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
রঞ্জন কৃষ্ণ পন্ডিত, টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে আখ ক্ষেতে ভাইরাসের আক্রমণ, পচে যাচ্ছে ক্ষেতের পর ক্ষেত আখ, দিশেহারা কৃষকরা। মোটাতাজা না হওয়ায় প্রতি পিচ আখ বাজারে সর্বোচ্চ ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে । একারণে প্রতিটি আখে কৃষকের লোকসান গুণতে হচ্ছে ৩০ টাকা। অথচ গত বছর প্রতিটি আখ বিক্রি হতো প্রায় ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। এতে কৃষকের প্রতি পিচ আখে ৩০ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে । কারণ হিসাবে কৃষকরা জানায় ভাইরাসের আক্রমণে পচে যাচ্ছে ফসল। এরমধ্যে যেগুলো বেঁচে আছে সেগুলো মোটাতাজা না হওয়াতে দামের পরিমাণও কমছে। যে কারণে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারের কাছে সহযোগিতা ও কৃষি বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও ছিল আশাব্যঞ্জক। তবে আখ পরিপক্ব হওয়ার সময় হঠাৎ ভাইরাসজনিত রোগের আক্রমণে অধিকাংশ ক্ষেতের আখ পচে যেতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও পুরো ক্ষেতই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সিলিমপুর ইউনিয়নের পাকুল্ল্যা গ্রামে মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ, চোখ জুড়ানো আখের ক্ষেত। সেই ক্ষেতই এখন ভাইরাসের আক্রমণে কৃষকের আর্তনাদের এক মৃত্যুপুরী। পচে যাচ্ছে ফসল, আর বছরের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে হতাশায় দিন কাটছে আখ চাষিদের। স্থানীয়দের দাবি ভাইরাসের আক্রমণে আখের ক্ষেতের এ পরিণতিতে দিশেহারা কৃষকরা। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি সহায়তা ও কৃষি বিভাগের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় আছেন তারা। তাই দ্রুত তাদের জন্য কৃষি বিভাগ থেকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় কৃষকরা জানান, শুরু থেকেই আখের বৃদ্ধি ভাল ছিল। তারা ভাল উৎপাদনের আশাও করেছিলেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্ষেতে ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দেওয়ার পর একের পর এক আখ পচে যেতে থাকে। বিশেষ করে ঈশ্বরদী জাতের পচাদানা আখ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। অনেক জমিতে একটি আখও সুস্থ নেই। কৃষক সুলতান কবিরের দাবি, সময়মতো রোগ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বিষয়টি কৃষি বিভাগকে জানানো হলেও মাঠপর্যায়ে তেমন সহযোগিতা পাননি বলে তার অভিযোগ। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রমজান আলী বলেছেন, এবার ফলন খুব ভালো হওয়ার আশায় ছিলেন তিনি । কিন্তু ভাইরাসে সব শেষ হয়ে গেছে। অনেকের পুরো ক্ষেত পচে গেছে। আখ বিক্রি করে সংসার চালানোর স্বপ্ন ছিল। এছাড়াও এই ফসল চাষ করতে অনেকের কাছে ধার দেনা করেছেন। এখন ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন সেটাই চিন্তার বিষয়।
