একটি সেতুর অভাবে এক দশক ধরে ভোগান্তি
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
কাজী বাবলা, পাবনা

পাবনায় সুতিখালী নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রামীণ জনপদের মানুষ। সেতু না থাকায় কৃষক, শিক্ষার্থী, নারী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গ্রামের মানুষের মরদেহ দাফনের জন্য স্বজনদের নদী পার হয়ে কবরস্থানে যেতে হয়।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়নের ভিটাপাড়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা কৃষিনিভর্র। তাদের কয়েক শ’ বিঘা আবাদি জমি সুতিখালী নদীর উত্তর পাড়ে অবস্থিত। কিন্তু নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ায় বাড়তি সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে নৌকা এবং শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে বা পানিতে নেমে পারাপার করতে হয়।
গ্রামবাসীরা জানান, নদীর এক পাশে বসতি এবং অন্য পাশে কবরস্থান থাকায় কোনো মানুষ মারা গেলে মরদেহ কবরস্থানে নিতে চরম বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়। কখনো নৌকায়, আবার কখনো কোমরসমান পানিতে নেমে বা সাঁতরে মরদেহ নিয়ে যেতে হয় নদীর অপর পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।
ফলে দুর্ভোগ দিন দিন আরও বাড়ছে।
তাঁরা আরো জানান, প্রায় ১০ বছর আগে এলাকাবাসীর উদ্যোগে নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য সরোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে সুতিখালী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। গ্রামবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় নির্মাণকাজ শুরু হলেও পরিকল্পনার অভাব ও অর্থসংকটের কারণে তা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি পিলার অসমাপ্ত উদ্যোগের স্মৃতি বহন করছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, একটি সেতু নির্মিত হলে কৃষি উৎপাদন ও বিপণন সহজ হবে, পরিবহন ব্যয় কমবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। একই মত প্রকাশ করেছেন গ্রামের নারীরাও। সাবেক ইউপি সদস্য ও সেতু নির্মাণের উদ্যোক্তা সরোয়ার হোসেন বলেন, জনদুর্ভোগ লাঘবের উদ্দেশ্যে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি সরকারিভাবে দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, গ্রামবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এ ব্যাপারে সাঁথিয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, সংশ্লিষ্ট স্থানটি পরিদর্শন করা হয়েছে। গ্রামবাসীর নির্মিত কলামের ওপর ৯০ মিটার দৈর্ঘের পূর্ণাঙ্গ সেতু নির্মাণ কারিগরিভাবে সম্ভব নয়। সেখানে নতুন করে সেতু নির্মাণ করতে হবে। তবে সড়কটি এখনো এলজিইডির আইডিভুক্ত না হওয়ায় প্রকল্প গ্রহণে জটিলতা রয়েছে। সড়কটি আইডিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রকল্পের আওতায় সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
