ময়মনসিংহে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
কাউছার পারভেজ শাকিল, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তীব্র জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা ও দুর্বলতাসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন রোগীরা। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগ ও ময়মনসিংহ সিটি করর্পোরেশন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৮২ জন রোগী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু জুলাই মাসেই ডেঙ্গু আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন ২৪২ জন রোগী। তাদের মধ্যে ১০৩ জনই ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা এবং আক্রান্তদের অধিকাংশই ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকার। চিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি অধিকাংশ রোগীর মধ্যে উচ্চমাত্রার জ্বর, শরীর ও হাড়ে তীব্র ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, ক্ষুধামন্দা এবং প্লাটিলেট কমে যাওয়ার উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে উঠলেও দেরি করলে জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অনেক বাড়ির আঙিনা, নির্মাণাধীন ভবনের আশপাশ, ড্রেন, পরিত্যক্ত পাত্র এবং ঝোপঝাড়ে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার না হওয়ায় অনেক এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। এতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে বলে তারা মনে করছেন।
ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকি বিবেচনায় ময়মনসিংহ সিটি করর্পোরেশন নগরের ৬, ১০, ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডকে ‘স্পেশাল জোন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এসব এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ সিটি করর্পোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে প্রতিদিন দুই দফা মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। তবে শুধু সিটি করর্পোরেশনের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নগরবাসীকেও নিজেদের বাড়ি ও আশপাশে কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন খান বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ, শয্যা ও চিকিৎসাসেবা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা সার্বক্ষণিক রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাড়ি, অফিস, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ ও আঙিনায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, মশারি ব্যবহার, পূর্ণহাতা পোশাক পরা এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
