ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

ইলিশের ভরা মৌসুম। অথচ জেলেদের জালে উঠছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। আড়তে নেই পর্যাপ্ত সরবরাহ, বাজারে আকাশছোঁয়া দাম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনসংলগ্ন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জও শরণখোলাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় অঞ্চলে এবার ইলিশ সংকট উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ, নিম্নচাপ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় সাগর উত্তাল থাকায় অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার গভীর সমুদ্রে যেতে পারছে না। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, নদী-মোহনায় অবৈধ বেহুন্দি জালের বিস্তার এবং গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সীমিত সক্ষমতা সংকটকে আরও তীব্র করেছে। ফলে শুধু ইলিশ নয়, পুরো উপকূলীয় মৎস্য অর্থনীতিই চাপে পড়েছে। একসময় সুন্দরবনসংলগ্ন পানগুছি-বলেশ্বর নদ ছিল রুপালি ইলিশের অফুরন্ত ভাণ্ডার। আষাঢ়-শ্রাবণ এলেই মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলার বাজার জমে উঠত টাটকা ইলিশের বেচাকেনায়। জেলেদের নৌকা ভিড়ত মাছভর্তি হয়ে, ক্রেতারা হালি ধরে ইলিশ কিনে বাড়ি ফিরতেন। সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন অনেকটাই অতীত।

দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর মধ্যে পানগুছি-বলেশ্বরের ইলিশের রয়েছে বিশেষ সুনাম। স্বাদ, গন্ধ, তেলের পরিমাণ এবং আকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের কারণে এ ইলিশ দীর্ঘদিন ধরেই ভোজনরসিকদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এ নদীর ইলিশের পেটি তুলনামূলক চওড়া এবং তেলের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এর স্বাদ অন্য নদীর ইলিশের চেয়ে আলাদা। বাগেরহাট রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির বলেন,বাজারে ইলিশ খুব কম আসে। যা পাওয়া যায় তার দাম এত বেশি যে সাধারণ পরিবারের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়।নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। কয়েক হাজার টাকা দিয়ে ইলিশ কেনা এখন স্বপ্নের মতো। মোরেলগঞ্জ এলাকার পানগুছির জেলে খলিল জানান, কয়েক বছর আগেও বলেশ্বর নদে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেত। এখন জাল ফেলেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়।তিনি বলেন, দু-একটি ছোট ইলিশ পাওয়া গেলেও বড় ইলিশ খুব কম ধরা পড়ে। নদীতে আগের মতো মাছ নেই। জেলে ও ট্রলার মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দীর্ঘ সময় সাগর উত্তাল থাকায় অধিকাংশ ট্রলার গভীর সমুদ্রে যেতে পারছে না।