বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা দুর্ভোগে শিক্ষার্থী-শিক্ষক

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  জাহিদ হাসান,মেলান্দহ (জামালপুর)

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ৩ নম্বর মাহমুদপুর ইউনিয়নের ২৩ নম্বর চর মাহমুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। অতিবৃষ্টির পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৃষ্ট এ জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, আর খেলাধুলা, সমাবেশ ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মূল সড়ক থেকে বিদ্যালয়ের ভবন ও খেলার মাঠ প্রায় পাঁচ ফুট নিচু। এছাড়া বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের সীমানা ঘেঁষে মাটি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করায় পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠটি পানিতে তলিয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিকুন্নাহার বলেন, “সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে ছোটখাটো জলাশয়ে পরিণত হয়। তখন জুতা হাতে নিয়ে কাদাপানি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হয়। ভেজা কাপড় ও কাদামাখা পায়ে শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়াতে আমাদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এতে পাঠদানও ব্যাহত হয়। বিদ্যালয়ের মাঠটি দ্রুত ভরাট করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।”

খেলার মাঠ একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মাঠে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীরা বিরতির সময় খেলাধুলা করতে পারছে না। সকালের সমাবেশও নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এছাড়া কাদাপানি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করছে অভিভাকরা।

অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ডেঙ্গুসহ পানিবাহিত রোগ এবং শিশুদের পায়ে বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান বলেন, বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস ধরে মাঠে জলাবদ্ধতা রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসান বলেন, বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেব।”

এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে কেউ আমাকে আগে কখনো বলেনি। আমাদের যে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আছেন তার সাথে কথা বলে সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।