জলাবদ্ধতায় বদলেছে সাপের বিচরণ পথ
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিভিন্ন অঞ্চলে যেন শুরু হয় আরেক অদৃশ্য সংকট। টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও প্লাবিত মাঠঘাটের কারণে বিষধর ও নির্বিষ সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ঘরবাড়ি, আঙিনা, ফসলের মাঠ ও বসতবাড়ির আশপাশে প্রায় প্রতিদিনই সাপের দেখা মিলছে। বসতির আশেপাশে সাপের বিচরণ বেড়ে যাওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন মানুষ।
উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা সন্ধ্যার পর প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা এলেই এই সমস্যা প্রকট হলেও কার্যকর সচেতনতামূলক উদ্যোগ কিংবা দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থার অভাব রয়ে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছরের সারাটা সময় সাপ লোকালয় মুক্ত এলাকায় থাকে। তখন সচরাচর চোখে পড়ে না। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিতে মাঠ-ঘাট ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাপ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ঝোপঝাড়, পরিত্যক্ত জায়গা, অপরিষ্কার ড্রেন ও জলাবদ্ধ পরিবেশ সাপের বিচরণ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাড়ির আঙিনায় চলাচলের রাস্তা সহ বসতির আশপাশে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিয়ত সাপ দেখা যাচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে উপজেলার কাঞ্চন হাটাবো টেকপাড়া, কালাদি, নলপাথর, নরাবো, কুশাব, আইতলা, ডুলুরদিয়া,তারাবো, বরপা, ভুলতা ও গোলাকান্দাইল, মধ্যপাড়া, দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, বৌবাজার, বাগমোর্চা, খালপাড়, ইসলামবাগ, নতুন বাজার, কান্দাপাড়া, বলাইখা, বিজয়নগর, মদিনানগর, তারাবো পৌরসভার তেঁতলাবো, শান্তিনগর, বাগানবাড়ি, পশ্চিম কান্দাপাড়া, উত্তর মাসাবো, যাত্রামুড়া, রূপসী ও ভূলতা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া, সোনাব, পাচাইখা ও ইসলামপুরসহ আশপাশের অসংখ্য এলাকা। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধ স্থানগুলোর বিভিন্ন এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। এসব এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই সাপ দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও বসতঘরের ভেতর, কোথাও রান্নাঘরে, আবার কোথাও গোয়ালঘরে সাপ ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার রাতে ঘুমানোর আগে পুরো ঘর তল্লাশি করে তারপর শুতে যাচ্ছেন।
তেতলাব খালপার এলাকার আল আমিন শেখ বলেন, রাতে দেখি দুটি সাপ বাড়িতে ঢুকতে চেষ্টা করছে। এ সময় আমি সাপ সাপ বলে চিৎকার করলে আশেপাশের সবাই ছুটে আসে। এ সময় চার হাত লম্বা একটি জাতি সাপ মারতে পারলেও অন্যটি চলে যায়। জলাবদ্ধতার কারণে সাপ আমাদের আরেক আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে।
শান্তিনগর এলাকার গৃহবধূ আছিয়া আক্তার বলেন, রাতে টয়লেটে যেতেও ভয় লাগে। কয়েক দিন আগে রান্নাঘরে একটি সাপ দেখা যায়। এরপর থেকে সন্তানদের একা কোথাও যেতে দিচ্ছি না। আগে বছরে দু-একবার সাপ দেখতাম, এখন প্রায় প্রতিদিনই খবর শুনছি। এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বেড়েই চলছে। কর্ণগোপ এলাকার বাসিন্দা সেলিম ভূঁইয়া বলেন, গত শনিবার ১৭ জুলাই দুপুরে আমার ভাগিনা রাসেলের বাড়িতে একটি জাতি সাপ ঢুকে পড়ে। পরে তাদের ডাক চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন ছুটে গিয়ে সাড়ে পাঁচ ফিট সাপটিকে মারতে সামর্থ্য হয়। জলাবদ্ধতায় এখন এলাকায় সাপের ভয়ে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, শুধু বর্ষার পানি নয়, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাভূমি ভরাট এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের কারণেও সাপ মানুষের বসতির কাছাকাছি চলে আসছে। রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের বলেন, বর্ষা মৌসুমে সাপে কাটার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। কিন্তু সচেতনতার অভাবে অনেকেই এখনও ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের ওপর নির্ভর করেন। এতে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হয় এবং রোগীর জীবন হুমকির মুখে পড়ে। সাপে কাটলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত রেখে দ্রুত হেলথ কমপ্লেক্সে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্নেক এন্টি ভেনম আছে। এখানে এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারও আছে। সময়মতো এন্টি ভেনম দিয়ে সাপে কাটা রোগীকে বাঁচানো যায়।
