পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি কাঁচা সড়ক
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
এএইচ এম আরিফ, কুষ্টিয়া

ভোট আসে, ভোট যায়। নেতারাও আসেন, চলেও যান। ভোটের আগে কত শত শত প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু ৫০ বছরেও এই ভোগান্তি থেকে কেউ আমাদের মুক্তি দিলো না! কথাগুলো ক্ষোভ ও দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম। কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর গ্রামের আইডিভুক্ত (নং ৪০৪৯) প্রায় ৫০০ মিটারের একটি কাঁচা সড়ক ৫০ বছরেও পাকা হয়নি।
ফলে বর্ষা মৌসুম এলেই চরম দুর্ভোগে পড়েন উত্তর ভবানীপুরসহ আশপাশের চার গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগীসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রতিদিন এই সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা নামলেই সড়কটি হাঁটু সমান কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। যার কারণে চলাচলের একবারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ভ্যান, ইজিবাইক কিংবা কোনো জরুরি যানবাহন এ সড়কে চলতে পারে না। সবচেয়ে বিপদে পড়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা; কাদাপানি পেরিয়ে সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবেও গ্রামটি পিছিয়ে পড়ছে বলে জানান স্থানীয় কৃষক মনোয়ার হোসেন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে গ্রামের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে-শাদি দিতেও সমস্যায় পড়তে হয়। এছাড়া হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল ঘরে তুলতে অতিরিক্ত খরচ ও কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
আর মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া যে কী কষ্টের, তা শুধু আমরাই জানি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান খোকন বলেন, সড়কটি পাকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি। কাঙ্খিত বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।
ভোগান্তির কথা স্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল হক জানান, ৫০০ মিটারের ওই কাঁচা সড়কটি এরইমধ্যে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পেলেই দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। জনপ্রতিনিধি ও প্রকৌশল বিভাগের প্রতি ভরসা রেখে ভবানীপুরসহ চার গ্রামের মানুষ এখন একটাই আশায় প্রহর গুনছেন এবার যেন প্রতিশ্রুতি আড়ালে সড়কটির ভাগ্য চাপা না পড়ে, দ্রুতই যেন কাদা-মুক্ত পাকার মুখ দেখে ভবানীপুর।
